মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দুটি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় স্বাধীনভাবে সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দাবি করেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমেদ আল জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই জলপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রক্ষীবাহিনী আরও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং সেই কারণেই তারা কঠোর প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত থাকবে। এর ফলে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের পর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তারা ইরানে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার জবাব।
এই ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কারগান এলাকায় বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
এরই মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য আরও গভীর সংকটের দিকে যাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুদ্ধবিরতিকে কার্যত দুর্বল করে দিয়েছে।
তিনি সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংঘাত যেন আরও বড় যুদ্ধে পরিণত না হয়, সেদিকে বিশ্বকে নজর রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিতে হামলার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে।

