ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই স্থানে ঈদের নামাজ আয়োজনের অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলছে, যেখানে একটি বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ধর্মীয় নামাজের জন্য একই স্থানের অনুমতি না দেওয়া বৈষম্যমূলক।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের এক মন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তার বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর মতো বড় কর্মসূচির সময় স্বাভাবিকভাবেই রাস্তা বন্ধ রাখা হয় এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার কারণে নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তার দাবি, রেড রোডে যোগ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে কারণ এটি তুলনামূলকভাবে কম যানজটপূর্ণ এলাকা, অন্য কোথাও করলে আরও বেশি সমস্যা হতে পারত।
তবে ঈদের নামাজের জন্য একই স্থানের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি আরও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তার বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের জন্য রাস্তা বন্ধ করা উচিত কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের আয়োজন চলে আসছে এবং মাঝে মাঝে কিছু পরিবর্তন হলে সেটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।
এ সময় তিনি প্রতিবেশী দুই দেশের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রয়োজনে সেখানে গিয়ে ধর্মীয় কাজ করা যেতে পারে—এ ধরনের মন্তব্যকে অনেকেই উসকানিমূলক বলে মনে করছেন।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য সমাজে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন, যার উদ্দেশ্য জনমত প্রভাবিত করা।
অন্যদিকে, সমালোচনার মধ্যেও সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, সরকারি কর্মসূচির কারণে রাস্তাঘাট ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে রেড রোডে অনুষ্ঠানকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সংঘাতে নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

