ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট নির্বাচনী এলাকা মেকারফিল্ড হঠাৎ করেই ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত জায়গাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সাধারণভাবে একটি উপনির্বাচন মানে সংসদের একটি আসনে নতুন প্রতিনিধি বাছাই। কিন্তু বৃহস্পতিবারের মেকারফিল্ড উপনির্বাচন শুধু একজন নতুন সংসদ সদস্য ঠিক করার ভোট নয়। এর ফল ব্রিটেনের ক্ষমতার ভারসাম্য, লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং উগ্র ডানপন্থার উত্থান—সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই উপনির্বাচন শুরু হয় গত মাসে, যখন মেকারফিল্ডের আগের সংসদ সদস্য জশ সাইমন্স পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে আসনটিতে লড়ার সুযোগ করে দেওয়া। বার্নহাম যদি জয়ী হন, তিনি সংসদে ফিরে আসবেন। আর সংসদে ফিরতে পারলেই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারবেন।
এই কারণেই মেকারফিল্ডের ভোটকে শুধু স্থানীয় নির্বাচন হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি লেবারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর গত দুই বছরে দলটির জনপ্রিয়তা দ্রুত কমেছে। জনগণের একাংশ মনে করছে, স্টারমারের সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। ফলে লেবারের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠছে—দলটি কি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে?
স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে গত মাসের স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের পর। ওই নির্বাচনে লেবার প্রায় ১,৫০০ স্থানীয় পরিষদ আসন হারায়। বিপরীতে অভিবাসনবিরোধী উগ্র ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে বড় সাফল্য পায়। দলটির আসনসংখ্যা ১০০ থেকে বেড়ে প্রায় ১,৪৫০-এ পৌঁছে যায়। এই ফল শুধু একটি নির্বাচনী ধাক্কা নয়; এটি দেখিয়েছে, লেবারের পুরোনো ভোটব্যাংকের একটি অংশ দ্রুত অন্যদিকে সরে যাচ্ছে।
বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে লেবারের ঐতিহ্যগত শ্রমজীবী ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। রিফর্ম ইউকে এই অসন্তোষকে অভিবাসন, স্থানীয় অর্থনীতির অবনতি এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্ষোভের ভাষায় ব্যবহার করছে। অন্যদিকে লেবারের বামপন্থী অংশের অনেক ভোটার স্টারমারের ইসরায়েল-নীতি এবং কল্যাণ ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে লেবার এখন দুই দিক থেকে চাপের মুখে—ডান দিক থেকে রিফর্ম, আর বাম দিক থেকে গ্রিন।
জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান ইপসসের তথ্য অনুযায়ী, স্টারমার বর্তমানে তাদের জরিপ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীদের একজন হিসেবে উঠে এসেছেন। এই অবস্থায় লেবারের ভেতরে এমন একজন নেতার খোঁজ বাড়ছে, যিনি দলকে আবার শ্রমজীবী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে পারেন। সেই জায়গাতেই অ্যান্ডি বার্নহামের নাম বারবার সামনে আসছে।
বার্নহাম বর্তমানে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র। জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার আগে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বে ছিলেন। পরে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ছেড়ে ম্যানচেস্টারে স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলেন। এই দূরত্বই এখন তার রাজনৈতিক সম্পদ। অনেক ভোটারের চোখে তিনি কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অংশ নন, বরং উত্তর ইংল্যান্ডের বাস্তবতা বোঝেন এমন একজন নেতা।
বার্নহামের রাজনীতিকে অনেকে ম্যানচেস্টারভিত্তিক বাস্তববাদী মডেল হিসেবে দেখেন। তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং একই সঙ্গে জরুরি সেবা জনগণের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। তার সমর্থকেরা তাকে কখনো কখনো উত্তরের রাজা বলেও ডাকেন। কোভিড মহামারির সময় তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ এবং হিলসবোরো বিপর্যয়ের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘ প্রচারণা তাকে জাতীয়ভাবে পরিচিত করেছে।
মেকারফিল্ডে তার ব্যক্তিগত সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ। জশ সাইমন্স পদত্যাগের সময় বলেন, এটি সেই এলাকা যেখানে অ্যান্ডি বার্নহাম ২৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। তার ভাষায়, বার্নহাম ঘরে ফিরছেন। সাইমন্স আরও বলেন, লেবার এমন এক বিভক্ত নেতৃত্বের লড়াইয়ের দিকে যাচ্ছে যেখানে আশা নেই, শক্তি নেই, পরিবর্তনের নিশ্চয়তাও নেই। তার বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই উপনির্বাচন আসলে লেবারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও একটি ভোট।
তবে বার্নহামের পথ সহজ নয়। তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রিফর্ম ইউকের প্রার্থী রবার্ট কেনিয়ন। পেশায় তিনি একজন প্লাম্বার। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের কিছু অংশ তাকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার প্রচারণা বিতর্কে ঘেরা। অতীতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নিয়ে তার বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী ও যৌনবাদী মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে।
উগ্রবাদবিরোধী সংগঠন হোপ নট হেট কেনিয়নের নামে কিছু পোস্ট প্রকাশ করেছে, যেখানে কোভিড-১৯ নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, টেলিভিশন উপস্থাপিকা ক্যারল ভর্ডারম্যানকে নিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের সমর্থন এবং নারী রাগবি খেলোয়াড়দের নিয়ে মন্তব্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, একটি অনলাইন ফোরামে কেনিয়ন নিজেকে যৌনবাদী বলে উল্লেখ করেছেন এবং নারীরা গর্ভপাতের সুযোগ পেতে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করে—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযোগগুলো তার প্রচারণাকে চাপের মুখে ফেললেও রিফর্ম ইউকে এখনো মেকারফিল্ডে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। ১৯৮৩ সালে আসনটি তৈরি হওয়ার পর থেকে লেবার সবসময় এটি ধরে রেখেছে। কিন্তু সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে এখানে দ্বিতীয় হয়েছিল। তাই এবার দলটি মনে করছে, বার্নহামের মতো পরিচিত প্রার্থী থাকলেও লেবারকে চ্যালেঞ্জ করার বাস্তব সুযোগ আছে।
রিফর্ম ইউকের উত্থানের পেছনে রয়েছে ব্রিটিশ রাজনীতির বড় পরিবর্তন। ব্রেক্সিটের প্রধান মুখ নাইজেল ফারাজ দলটিকে অভিবাসনবিরোধী বার্তার মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় করেছেন। কনজারভেটিভ পার্টির পতনও এতে সাহায্য করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কনজারভেটিভদের অনেক পরিচিত মুখ রিফর্মে যোগ দিয়েছেন। ফলে দলটি শুধু ডানপন্থী ভোটার নয়, লেবারের পুরোনো শ্রমজীবী ভোটারদের একটি অংশও টানতে পারছে।
স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ভোটার নিজেদের এলাকার পরিবর্তন নিয়ে অসন্তুষ্ট। শহরের প্রধান সড়কে ভ্যাপ দোকান, খাবারের দোকান ও বদলে যাওয়া বাণিজ্যিক পরিবেশকে অনেকে স্থানীয় অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে দেখেন। বাস্তবে সমস্যা শুধু দোকান নয়; এর ভেতরে আছে স্থানীয় পরিচয় হারানোর ভয়, অর্থনীতির দুর্বলতা এবং পুরোনো শিল্পাঞ্চলের অবহেলার বোধ। রিফর্ম এই ক্ষোভকে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করছে।
তবে রিফর্মের ভোটে ফাটল ধরাতে পারে আরেক উগ্র ডানপন্থী দল রিস্টোর ব্রিটেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা রুপার্ট লো, যিনি আগে রিফর্মের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার অভিযোগ, রিফর্ম ইউকে এখন খুব বেশি মূলধারায় চলে গেছে এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর প্রশ্নে যথেষ্ট কঠোর নয়। ২০২৫ সালের মার্চে নাইজেল ফারাজের প্রকাশ্য সমালোচনার পর লোকে রিফর্ম থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও নারী কর্মীদের অভিযোগের পর তাকে বহিষ্কার করা হয়, যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রিস্টোর ব্রিটেন চার মাসেরও কম সময় আগে যাত্রা শুরু করলেও দলটি দাবি করছে, তাদের সদস্যসংখ্যা ৯৬,০০০-এর বেশি এবং তাদের সঙ্গে ১৩ জন কাউন্সিলর যুক্ত হয়েছেন। এদের অনেকে আগে রিফর্মের সঙ্গে ছিলেন। মেকারফিল্ডে রেবেকা শেফার্ড এই দলের প্রার্থী। তিনি যদি রিফর্মের একটি অংশের ভোট টেনে নিতে পারেন, তাহলে সেটি বার্নহামের জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে।
কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী মাইকেল উইনস্ট্যানলি। তিনি উইগানের সাবেক মেয়র এবং স্থানীয় ওরেল ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৬ বছর স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক তাকে এলাকার অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মেকারফিল্ডে কনজারভেটিভদের অবস্থান এখন খুব দুর্বল। উইগানের মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার ৪২টি আসন, রিফর্ম ২৫টি আসন পেলেও কনজারভেটিভরা কোনো আসন পায়নি। শেষ সাধারণ নির্বাচনে মেকারফিল্ডে কনজারভেটিভরা তৃতীয় হয়েছিল এবং তাদের ভোট ছিল মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি।
জরিপ বলছে, মেকারফিল্ডে মূল লড়াই বার্নহাম ও কেনিয়নের মধ্যে। ফরওয়ার্ড ডেমোক্রেসির জন্য ওপিনিয়ামের করা সবচেয়ে বড় জরিপে ৫৪৩ জন স্থানীয় বাসিন্দার মতামত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি এমন ভোটারদের মধ্যে বার্নহাম ৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। যারা নিজেদের ভোটদানের সম্ভাবনা ১০-এর মধ্যে অন্তত ৭ বলেছেন, তাদের মধ্যে বার্নহামের সমর্থন ৪৬ শতাংশ, আর কেনিয়নের ৪১ শতাংশ।
এই ব্যবধান খুব বড় নয়। ফলে ফলাফল নির্ভর করতে পারে ভোটার উপস্থিতি, কৌশলগত ভোট এবং রিফর্ম-ঘরানার ভোট কতটা ভাগ হয় তার ওপর। রিস্টোর ব্রিটেনের রেবেকা শেফার্ড ৭ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কনজারভেটিভরা আছে মাত্র ২ শতাংশে। অর্থাৎ, রিফর্মের ভোটে সামান্য ভাঙনও লেবারের জন্য জয় এনে দিতে পারে।
তবে একই জরিপে একটি সতর্কবার্তাও আছে। উপনির্বাচনে বার্নহাম এগিয়ে থাকলেও ভবিষ্যৎ সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিলে মানুষ কাকে বেছে নেবে—এই প্রশ্নে রিফর্ম ইউকে ৪২ শতাংশে এগিয়ে, আর লেবার ৩৪ শতাংশে। এর মানে, মেকারফিল্ডে বার্নহামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা লেবারের দুর্বলতাকে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আসনটির রাজনৈতিক প্রবণতা রিফর্মের দিকে যেতে পারে।
মে মাসে মেকারফিল্ডে লেবার তাদের স্থানীয় পরিষদের সব আটটি আসন রিফর্মের কাছে হারিয়েছে। এই তথ্য লেবারের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ এটি প্রমাণ করে, মেকারফিল্ডে রিফর্মের উত্থান কেবল সাময়িক প্রচারণার ফল নয়; স্থানীয় স্তরে তাদের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। তাই বার্নহাম জয়ী হলেও লেবারের সংকট শেষ হবে না।
এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৌশলগত ভোট। ফরওয়ার্ড ডেমোক্রেসি ও স্টপরিফর্মইউকে ডট ভোটের প্রতিষ্ঠাতা টম ডে গ্রুনওয়াল্ড বলেছেন, যারা সাধারণত গ্রিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট বা অন্য দলকে ভোট দেন কিন্তু রিফর্মকে জিততে দিতে চান না, তাদের জন্য হিসাব পরিষ্কার—বার্নহামই একমাত্র প্রার্থী যিনি রিফর্মকে থামাতে পারেন। এই ধরনের আহ্বান বার্নহামের পক্ষে ভোট একত্র করতে পারে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যারন বাস্তানি মনে করেন, রিস্টোর ব্রিটেনের ভোটারদের বড় অংশ শেষ মুহূর্তে রিফর্মে ফিরে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, অনেক ভোটার এখন নাইজেল ফারাজকেও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। যদি রিস্টোর ব্রিটেন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করে, তাহলে উগ্র ডানপন্থী ভোট ভাগ হবে এবং বার্নহাম সুবিধা পাবেন।
মেকারফিল্ডের ফল তাই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। প্রথমত, বার্নহামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কি লেবারের জাতীয় অজনপ্রিয়তাকে অতিক্রম করতে পারবে? দ্বিতীয়ত, রিফর্ম ইউকে কি শ্রমজীবী উত্তর ইংল্যান্ডে লেবারের পুরোনো দুর্গ ভাঙতে পারবে? তৃতীয়ত, উগ্র ডানপন্থী ভোট কি এক জায়গায় থাকবে, নাকি রিস্টোর ব্রিটেনের মতো নতুন দল তা ভাগ করে দেবে? চতুর্থত, স্টারমারের নেতৃত্ব কি এই ভোটের পর আরও চাপে পড়বে?
বার্নহাম যদি জেতেন, তাহলে তিনি শুধু সংসদ সদস্য হবেন না; তিনি লেবারের নেতৃত্বের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামার সুযোগ পাবেন। তার জয় স্টারমারবিরোধী লেবার অংশকে সাহস দিতে পারে। আবার জয় খুব অল্প ব্যবধানে হলে সেটিও বার্তা দেবে—বার্নহাম জনপ্রিয় হলেও লেবারের জমি দুর্বল হয়ে গেছে।
অন্যদিকে রিফর্ম যদি জেতে, সেটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ভূমিকম্প হবে। কারণ বার্নহামের মতো শক্তিশালী স্থানীয় পরিচিতিসম্পন্ন প্রার্থীকে হারিয়ে মেকারফিল্ড জেতা নাইজেল ফারাজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হতে পারে। এতে প্রমাণ হবে, রিফর্ম শুধু ক্ষোভের ভোট নয়, লেবারের ঐতিহাসিক ঘাঁটিও দখল করতে সক্ষম।
শেষ পর্যন্ত মেকারফিল্ডের উপনির্বাচন একটি ছোট এলাকার ভোট হলেও এর রাজনৈতিক গুরুত্ব জাতীয়। এখানে একদিকে লেবারের নেতৃত্ব সংকট, অন্যদিকে উগ্র ডানপন্থার বিস্তার, আর মাঝখানে স্থানীয় জনগণের হতাশা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা একসঙ্গে মিলেছে।
ব্রিটিশ রাজনীতিতে অনেক সময় বড় পরিবর্তনের শুরু হয় ছোট নির্বাচনী এলাকার ফল দিয়ে। মেকারফিল্ডও তেমন এক মুহূর্ত হতে পারে। বৃহস্পতিবারের ফল শুধু একজন সংসদ সদস্য নির্বাচন করবে না; এটি জানিয়ে দেবে লেবার কি এখনো উত্তর ইংল্যান্ডের শ্রমজীবী ভোটারদের ধরে রাখতে পারে, নাকি ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ডানপন্থী ঢেউ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে বড় কথা, এই ভোট কিয়ার স্টারমারের জন্য সতর্কবার্তা। ক্ষমতায় থাকা মানেই স্থিতি নয়, আর বড় সাধারণ নির্বাচনী জয় মানেই দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক নিরাপত্তা নয়। জনগণের আস্থা হারালে ছোট আসনও বড় সংকেত হয়ে উঠতে পারে। মেকারফিল্ড সেই সংকেত দেবে—লেবারের ভবিষ্যৎ কি বার্নহামের দিকে ঘুরবে, নাকি রিফর্মের উত্থান ব্রিটিশ রাজনীতির নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে।

