লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করলেও সেই পরিস্থিতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দক্ষিণাঞ্চল এবং বেকা উপত্যকার একাধিক স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের মতে, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর অবাধ তৎপরতা তারা মেনে নেবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হামলাগুলো মূলত দক্ষিণাঞ্চল ও বেকা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছে। এতে আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলোচনা কবে শুরু হবে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি টেকসই না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ, ইরান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও মাটির পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনও কঠিন ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

