Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুন 21, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইরান যুদ্ধের নীরব বিজয়ী কি চীন
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধের নীরব বিজয়ী কি চীন

    হাসিব উজ জামানজুন 21, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইরান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কে জিতল—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে খুঁজলে পুরো ছবি বোঝা যাবে না। কারণ আধুনিক ভূরাজনীতিতে জয় সব সময় সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে আসে না। কখনো কখনো জয় আসে অপেক্ষা করে, দূরত্ব বজায় রেখে, নিজের ক্ষতি কমিয়ে এবং অন্যদের ভুলকে সুযোগে পরিণত করে। ইরান যুদ্ধের পর চীনকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটি ঠিক এই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ।

    ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা ইরানের ওপর পড়তে শুরু করে, তখন বেইজিংয়ের সামনে বড় উদ্বেগ ছিল। চীনের দীর্ঘদিনের একটি কৌশলগত অংশীদার রাষ্ট্র হুমকির মুখে পড়েছিল। তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক বিনিয়োগ বড় ধাক্কা খেতে পারত। কয়েক সপ্তাহ আগেই ভেনেজুয়েলার ঘটনায় চীন দেখেছিল, বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো সরকার দ্রুত অস্থির হয়ে গেলে তার প্রভাব কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে। তাই ইরান যুদ্ধের শুরুতে বেইজিংয়ের উদ্বেগ ছিল বাস্তব।

    কিন্তু প্রায় চার মাস পর ছবিটি অনেক বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতায় পৌঁছেছে। দীর্ঘ যুদ্ধের পর সরাসরি শান্তি আলোচনার পথ খুলেছে। তেহরানের সরকার টিকে আছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই যুদ্ধ অনেকের চোখে মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে বড় শক্তি হলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন কতটা কঠিন, তা এই সংঘাত আবার সামনে এনেছে।

    চীন এখানেই নিজের লাভ দেখতে পাচ্ছে। বেইজিং যুদ্ধ শুরু করেনি। সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ায়নি। ইরানের পক্ষেও প্রকাশ্যে এমনভাবে দাঁড়ায়নি, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়। আবার ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ইরানকে পুরোপুরি ছেড়েও দেয়নি। এই মাঝামাঝি অবস্থানই চীনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পুঁজি হয়ে উঠেছে।

    যুদ্ধ চলাকালে চীন নিজেকে শান্তির পক্ষে দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। দেশটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে তারা ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। তবে চীন সরাসরি দাবি করেনি যে এই চুক্তি তারাই করিয়েছে। বরং তারা বলেছে, যুদ্ধ থামাতে তারা ধারাবাহিক কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়েছে।

    চীনের এই অবস্থান কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক। তারা একদিকে শান্তির ভাষা ব্যবহার করেছে, অন্যদিকে নিজেদের প্রভাব দেখিয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এপ্রিল মাসে চার দফা শান্তি প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবের মাধ্যমে বেইজিং বোঝাতে চায়, মধ্যপ্রাচ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই সিদ্ধান্ত নেবে—এই যুগ শেষ হচ্ছে। চীনও এখন এমন এক শক্তি, যার কথা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলো শুনতে বাধ্য।

    চীনের জন্য আরেকটি বড় সুবিধা ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে বেইজিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, চীন নিরপেক্ষ থেকেছে এবং চীনা নৌবাহিনী মার্কিন অবরোধ ভাঙতে কোনো শক্তিপ্রদর্শনের পথ নেয়নি। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত করেন, শি চিন পিং হয়তো সংকট সমাধানে সাহায্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট যখন এমন কথা বলেন, তখন সেটি চীনের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

    তবে চীনের নিরপেক্ষতা ছিল সম্পূর্ণ নির্লিপ্ততা নয়। যুদ্ধ চলাকালে তারা ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু চীন এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যাতে সরাসরি মার্কিন সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এটাই বেইজিংয়ের হিসাবি ভারসাম্য।

    চীন যোগাযোগের দরজাও খোলা রেখেছিল। যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন দেশের নেতারা বেইজিং সফর করেছেন। ট্রাম্পও মে মাসে চীনে যান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বেইজিং সফর করেন। পাকিস্তানের নেতারাও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, যারা এই সংঘাতে মধ্যস্থতার অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে। এই ধারাবাহিক সফরগুলো চীনকে এমন এক মঞ্চে বসিয়েছে, যেখানে যুদ্ধরত ও মধ্যস্থতাকারী শক্তিগুলো সবাই কোনো না কোনোভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছে।

    তেহরান শুরুতে চেয়েছিল, চীন যেন শান্তি চুক্তির কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তাদাতা হয়। কিন্তু বেইজিং সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকায় খুব আগ্রহ দেখায়নি। কারণ নিশ্চয়তাদাতা হলে চুক্তি ভাঙলে চীনের ওপর সরাসরি দায় আসতে পারত। চীন বরং প্রভাব রাখবে, কিন্তু দায় নেবে না—এমন পথ বেছে নিয়েছে। কূটনীতিতে এটি একটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর কৌশল।

    হরমুজ প্রণালি নিয়েও চীন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল যথাযথভাবে সামলাতে হবে। এই বক্তব্যের ভেতরে চীনের আসল উদ্বেগ স্পষ্ট—তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হবে চীন। তাই বেইজিং ইরানের পাশে থাকলেও এমন কোনো অস্থিরতা চায় না, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আবার বিস্ফোরিত করে।

    জ্বালানি সংকট সামলানোর ক্ষেত্রেও চীন তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে ধাক্কা লাগে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেক দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু চীনের বড় কৌশলগত তেল মজুত, জ্বালানি ব্যবহারে পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সবুজ প্রযুক্তির বিস্তার তাকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। অন্য অনেক প্রতিবেশী দেশের তুলনায় চীন এই চাপ ভালোভাবে সামলাতে পেরেছে।

    এই জায়গায় চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব বোঝা যায়। বহু বছর ধরে দেশটি তেল মজুত বাড়িয়েছে, বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ করেছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ করেছে এবং শিল্প উৎপাদনকে ধীরে ধীরে জ্বালানি দক্ষতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের সময় এই প্রস্তুতির ফল দেখা গেছে। চীনা বিশ্লেষকেরা তাই বলছেন, এই সংকট প্রমাণ করেছে যে বেইজিংয়ের পরিকল্পনা কেবল অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতও।

    ইরান যুদ্ধকে ঘিরে চীনের ভেতরে আরেকটি বড় আলোচনা শুরু হয়েছে—এটি কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুয়েজ মুহূর্ত? সুয়েজ সংকটের পর ব্রিটেনের বৈশ্বিক প্রভাব দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি ইতিহাসে বড় প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এখন কিছু চীনা বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন, হরমুজ প্রণালির সংকট কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেমনই কোনো সংকেত হয়ে থাকবে?

    চীনের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে একক পরাশক্তি হিসেবে দেখেছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, সামরিক শক্তি থাকলেই সব রাজনৈতিক ফল পাওয়া যায় না। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চাপ তৈরি করতে পেরেছে, কিন্তু পুরোপুরি নিজের পছন্দের ফল আদায় করতে পারেনি। তাছাড়া যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার ঐতিহ্যগত মিত্রদেরও এক জায়গায় আনতে পারেনি। এই বিষয়টি চীনের দৃষ্টিতে মার্কিন জোটব্যবস্থার দুর্বলতার লক্ষণ।

    চীনা রাজনৈতিক ভাষ্যে তাই একটি বার্তা বারবার উঠে আসছে—যুক্তরাষ্ট্র এখনো শক্তিশালী, কিন্তু তার প্রভাব আগের মতো নিঃশর্ত নয়। অনেক দেশ এখন ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করছে। যুদ্ধের খরচ, বাজারের ধাক্কা, মিত্রদের দ্বিধা এবং বৈশ্বিক জনমতের চাপ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগ এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল।

    চীনের জন্য এটি বড় সুযোগ। কারণ বেইজিং বহুদিন ধরে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার কথা বলে আসছে। অর্থাৎ একক মার্কিন নেতৃত্ব নয়, বরং একাধিক শক্তির ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা। ইরান যুদ্ধ সেই ধারণাকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে। চীন এখন বলতে পারছে—যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে, আর চীন আলোচনা, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার কথা বলে।

    তবে এই বক্তব্যের ভেতরে বাস্তবতা ও প্রচার—দুটিই আছে। চীন নিজেকে শান্তির শক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও সে নিজের স্বার্থ খুব স্পষ্টভাবে হিসাব করেছে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে, আবার উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেনি, আবার ওয়াশিংটনের চাপেও পুরোপুরি নত হয়নি। এই ভারসাম্যই চীনের কূটনৈতিক কৌশলের মূল শক্তি।

    চীন ইরানের দীর্ঘদিনের অংশীদার। ইরানি তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চীনের রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক। ফলে বেইজিং কোনো এক পক্ষের সঙ্গে এমনভাবে দাঁড়াতে চায় না, যাতে অন্য পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চীনের নীতি তাই আদর্শের চেয়ে স্বার্থনির্ভর।

    এই যুদ্ধ তাই চীনের সামনে দুই ধরনের লাভ এনে দিয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা বিশ্বমঞ্চে আরও দৃশ্যমান হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চীন নিজেকে সংঘাত-পরবর্তী আলোচনার সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী ও দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছে। কোনো গুলি না ছুড়েও বেইজিং নিজের অবস্থান শক্ত করেছে।

    তবে চীনের জন্য সবকিছু সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র এখনো মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী বাইরের শক্তি। তার সামরিক ঘাঁটি আছে, আঞ্চলিক মিত্র আছে, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা আছে। চীন এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা পুরোপুরি নিতে চাইছে না, অন্তত প্রকাশ্যে নয়। বরং বেইজিং এমন এক প্রভাব তৈরি করতে চাইছে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়, কিন্তু তাকে সরাসরি নিরাপত্তা দায়িত্বও নিতে না হয়।

    এখানেই চীনের সীমাবদ্ধতা। শান্তির পক্ষে কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তব সমাধান তৈরি করা কঠিন। যুদ্ধ থামানো, জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখা, ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থা ধরে রাখা—এসব একসঙ্গে সামলানো সহজ কাজ নয়। চীন যদি সত্যিই বৈশ্বিক দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভুল দেখালেই হবে না; তাকে কার্যকর সমাধানও দিতে হবে।

    ইরান যুদ্ধ তাই চীনের জন্য সুযোগ, কিন্তু পরীক্ষা-ও। সুযোগ এই কারণে যে, বেইজিং দেখাতে পেরেছে—সে যুদ্ধের বাইরে থেকেও প্রভাবশালী। পরীক্ষা এই কারণে যে, এখন সবাই দেখবে চীন সত্যিই শান্তি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে কি না। শুধু কূটনৈতিক সফর, বিবৃতি ও শান্তির ভাষা যথেষ্ট নয়; সংকটের বাস্তব সমাধান দরকার।

    তাই বলা যায়, ইরান যুদ্ধের পর চীন নিজেকে বিজয়ী হিসেবে প্রকাশ্যে ঘোষণা না করলেও নীরবে অনেক হিসাব মিলিয়ে নিচ্ছে। তেহরানের সরকার টিকে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চীনের কূটনৈতিক মঞ্চ বড় হয়েছে। জ্বালানি ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা প্রমাণ হয়েছে। আর বিশ্ব রাজনীতিতে বেইজিংয়ের বহুমেরু ব্যবস্থার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

    কিন্তু এই জয় অসম্পূর্ণ। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী প্রভাব চাইলে শুধু দূর থেকে ভারসাম্য রক্ষা যথেষ্ট নয়। চীনকে একসময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হতে পারে—সে কি কেবল সুবিধা নেবে, নাকি দায়িত্বও নেবে? ইরান যুদ্ধের পর বেইজিং আপাতত সুবিধার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ভবিষ্যৎ বলবে, সে দায়িত্বের জায়গাতেও দাঁড়াতে পারে কি না।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বাস্তব মূল্যায়ন হলো—যুদ্ধ করেছে অন্যরা, কিন্তু কূটনৈতিক লাভ তুলতে শুরু করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র এখনো শক্তিশালী, তবে তার শক্তির খরচ বেড়েছে। ইরান এখনো দুর্বল, তবে ভেঙে পড়েনি। আর চীন এখনো সামনে থেকে নেতৃত্ব নেয়নি, কিন্তু পেছন থেকে খেলার মাঠ বদলাতে শুরু করেছে।

    ইরান যুদ্ধ তাই শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়। এটি বিশ্বক্ষমতার পরিবর্তিত হিসাবের একটি বড় সংকেত। যেখানে বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, চাপ নিয়েছে ইরান, আতঙ্কে ছিল জ্বালানি বাজার—আর সুযোগের জানালা খুলেছে বেইজিংয়ের জন্য।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    যুদ্ধ থামল কিন্তু ইসরায়েলের ভয় কাটল না

    জুন 21, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ট্রাম্পকে আর ছাড় দিচ্ছে না ইউরোপ

    জুন 21, 2026
    আন্তর্জাতিক

    তৃণমূলের তিন ব্যাংক হিসাব স্থগিত, আটকে ৪৪০ কোটি রুপি

    জুন 21, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.