সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে ঘিরে নতুন একটি দাবি সামনে এনেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংলাপে পাকিস্তান কেবল মধ্যস্থতাকারী বা আয়োজক হিসেবে কাজ করেনি, বরং পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্বও দিয়েছে।
বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে শাহবাজ শরিফ বলেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস ও উত্তেজনার মধ্যে থাকা দুটি পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দেশটি একা ছিল না। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে চীনের পূর্ণ সমর্থন তারা পেয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক ও সৌদি আরবও আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে এবং সংলাপকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে। তার মতে, এই দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা ও যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
শাহবাজ শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো অতীতে কখনো সরাসরি এমনভাবে মুখোমুখি বসেনি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক সন্দেহের কারণে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক উদ্যোগের ফলে এখন তারা শুধু রাজনৈতিক পর্যায়েই নয়, বরং কারিগরি ও বাস্তবায়ন পর্যায়ের আলোচনা নিয়েও কাজ শুরু করেছে।
তার ভাষায়, বর্তমানে আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক সমঝোতাগুলোকে বাস্তব কাঠামোয় রূপ দেওয়া এবং যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে সেগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
বিশ্লেষকদের মতে, শাহবাজ শরিফের এই বক্তব্য পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার বার্তা দিতে চায় দেশটি।
তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কোনো শান্তি উদ্যোগের সাফল্য সাধারণত একক কোনো দেশের কৃতিত্ব হিসেবে দেখা হয় না। বরং একাধিক রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এগুলো বিবেচিত হয়। তারপরও শাহবাজ শরিফের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, পাকিস্তান এই আলোচনাকে নিজেদের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের লক্ষ্য কখনোই কেবল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সীমাবদ্ধ থাকা নয়। বরং সংলাপকে শক্তিশালী করা, সংঘাত কমানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর অবদান রাখাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। তাই আগামী দিনগুলোতে এই সংলাপ কতদূর এগোয় এবং পাকিস্তান বাস্তবে কতটা প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রধান আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

