কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন রুবিও। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
রুবিওর মতে, হরমুজ প্রণালি কোনো একক দেশের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় যেতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে থাকে। ফলে সেখানে টোল আরোপের সুযোগ দেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। এ অবস্থায় রুবিওর বক্তব্য ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরকালে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর কুয়েত ও বাহরাইন সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে তার।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর প্রতি সমর্থনের বার্তা দিতেই এই সফর করছেন রুবিও। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

