ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ভারতের সেনা অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন প্রকাশিত একটি বইয়ে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা Regime Change: Inside the Imperial Presidency of Donald Trump বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার মাত্র ১০ দিন পর এ বৈঠক হয়েছিল।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তিনি একাধিকবার দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় এলে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবেন। ওই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়া ও ইউক্রেনবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলগ। তার প্রস্তাবিত ‘ট্রাম্পস হিস্টোরিক পিস ডিল’ পরিকল্পনায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের শান্তিরক্ষী সেনা মোতায়েনের কথা বলা হয়েছিল।
তবে ভ্যান্স ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনা ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তার মতে, এতে রাশিয়া আরও উসকানি অনুভব করতে পারে। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও ন্যাটো সেনা মোতায়েনকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বইটির দাবি অনুযায়ী, এরপর ভ্যান্স জানতে চান ইউরোপের বাইরে অন্য কোনো দেশের সেনা এ দায়িত্ব পালন করতে পারে কিনা। পরে তিনি ভারতের নাম প্রস্তাব করেন। এ সময় ট্রাম্প হেসে বলেন, “ভারত এটা করবে না। এ ধরনের কিছুর জন্য তারা অর্থ ব্যয়ও করবে না।” একই সঙ্গে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে ভারত শুরু থেকেই সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও মোদির বৈঠকের পরও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর আগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে। সেখানে বলা হয়, “কোনো সংঘাতের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এটি যুদ্ধের যুগ নয়।”
ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রশ্নে অবস্থান জানায়নি। তবে দুই মাস পর কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ভারত সীমিত আকারে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত এক দশকে জাতিসংঘের অধীনে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া ও লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছে ভারতীয় শান্তিরক্ষীরা।

