চিকিৎসা শেষে শরীরের ভেতরে ভুলবশত একটি ফিডিং টিউব রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেই টিউবই প্রায় ৩৫ বছর ধরে শরীরের ভেতরে ছিল বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকির বাসিন্দা ডেবোরাহ লো। এ ঘটনায় গত বছর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি।
ঘটনার শুরু ১৯৮৯ সালে। সে সময় জরুরি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় ডেবোরাহ গুরুতর জটিলতার মুখে পড়েন। ওই ঘটনায় তিনি তার যমজ সন্তানদের হারান। পরে চিকিৎসকদের তার জরায়ুও অপসারণ করতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর টানা প্রায় দুই মাস তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তার শারীরিক দুর্ভোগ শেষ হয়নি। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে তিনি নিয়মিত পেটব্যথা, পেট ফেঁপে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের হজমজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকেন। এ সময় একাধিকবার চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ২০২৪ সালে অন্য একটি চিকিৎসাজনিত অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা তার শরীরের ভেতরে বহু বছর ধরে রয়ে যাওয়া একটি পুরোনো ফিডিং টিউবের সন্ধান পান। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়।
এ ঘটনার পর আইনজীবী বি’আইভরি লা’মারের প্রতিনিধিত্বে ডেবোরাহ লো হাসপাতালের বিরুদ্ধে ২০ পৃষ্ঠার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চিকিৎসাগত অবহেলা, গুরুতর চিকিৎসা ত্রুটি, দায়িত্ব লঙ্ঘন এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার মাধ্যমে ডেবোরাহ দাবি করেছেন, প্রতিরোধযোগ্য একটি ভুলের কারণে তাকে কয়েক দশক ধরে শারীরিক যন্ত্রণা ও জীবনমানের অবনতির শিকার হতে হয়েছে। তাই তিনি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চান।
একই সঙ্গে তার আইনজীবী দল মনে করছে, এই মামলা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। তাদের আশা, ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা-সামগ্রীর হিসাব আরও কঠোরভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

