ভারতের কেরালা রাজ্যে হৃদয়বিদারক এক ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পিরাভোম এলাকার একটি নদী থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে নদী থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে পরিবারের চার সদস্যের সবাইকে খুঁজে পাওয়া যায়। এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় একই নদী থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মা বিজির মরদেহ। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। একই দিন উদ্ধার করা হয় তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলের মরদেহও।
পরদিন শনিবার (২৭ জুন) নদী থেকে উদ্ধার করা হয় পরিবারের কর্তা নারায়ণনের মরদেহ। এরপর নিখোঁজ সাত বছর বয়সী মেয়েটিকে খুঁজতে পুলিশ ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। শনিবার তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও রোববার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু হলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পরিবারটি কোট্টামঙ্গলম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই নিখোঁজ সদস্যদের খোঁজে অনুসন্ধান শুরু হয়। নারায়ণনের বাড়ি ছিল পালাক্কাডে, তবে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোট্টামঙ্গলমেই বসবাস করছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি আর্থিক সংকটে ভুগছিল। বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে তারা কোট্টামঙ্গলম থানায় সহায়তা চেয়েছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তাদের জন্য বিকল্প একটি বাসস্থানের ব্যবস্থাও করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববারই নতুন বাসায় ওঠার কথা ছিল পরিবারের।
তদন্তকারীরা পিরাভোমের একটি রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাদের গতিবিধি নিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ পরিবারের স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের করুণ পরিণতির গল্প নয়, বরং আর্থিক সংকট, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সময়মতো সহায়তা পাওয়ার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ পরিবারের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করলেও, সেই সহায়তা কার্যকর হওয়ার আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
তবে পুলিশ এখনো আত্মহত্যার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আলামত, সাক্ষ্য এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব হবে।

