১৯২৭ সালে রুশ দেশে প্রলেতারিয়াজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এক জরুরি সভার আহবান করা হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল মাত্র একটি – ঈশ্বর আছে কি নেই? অনেক তর্ক বিতর্কের পর স্থির হল, জনমত নেওয়া হোক।
আজকের দিনের ভাষায় যাকে বলে ‘বিপুল ভোটাধিক্যে’ ঈশ্বরের পরাজয় হল। ‘বিপুল’ কেন, – ঈশ্বর অতি কষ্ঠে পেলেন শতকরা একটি ভোট। ঈশ্বর থাকলেও বোঝা গেল তার পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্ট অতিশয় রদ্দী, আর টাউটরা উভয় পক্ষের পয়সা খেয়ে শেষটায় ভোট দেয় কাফিরদের। ঈশ্বরের ম্যানিফেস্টোতে ছিল তিনি ধর্মাচারিগণকে মৃত্যুর পর স্বর্গরাজ্য দেবেন। অর্থাৎ পোস্ট-ডেটেট চেক অন আ নন-এক্সিটিঙ ব্যাঙ্ক। সুতরাং ঈশ্বর দশ চক্রে ভূত হয়ে রুশ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হলেন।
এটাও শুনেছি রুশের সংবিধানে নাকি আছে, “ধর্মনিরপেক্ষ কম্যুনিস্ট রাষ্ট্রে ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করার অধিকার সর্ব কম্যুনিস্টের আছে। ১৯৪১/৪২ সালে রুশ যখন হিট+লারের হামলায় যায়-যায়, তখন স্তালিন খুলে দিলেন বেবাক চার্চ, বিস্তর মঠ, নিমন্ত্রণ করলেন মিত্র ইংলন্ডের পাদ্রীদেরকে। গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা উঠলো, ‘ঈশ্বর, হোলি রাশাকে বাঁচাও।’
সেই অরণ্যের মোট জনসমাগম, ধর্মোচ্ছাস দেখে স্তালিন খুশী হয়েছিলেন, না পাঁড় কম্যুনিস্টের যা হওয়া উচিত – ব্যাজার হয়েছিলেন, তা জানা যায়নি, হয়তো বা বিষাদে হরিষ, কিংবা হরিষে বিষাদ। কে জানে।

