১৯৬৫ সালে ফ্রান্সের আরল শহরে সম্পাদিত একটি সম্পত্তি চুক্তি সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত আইনি ঘটনার উদাহরণ হয়ে ওঠে। শুরুতে এটি আইনজীবী আন্দ্রে-ফ্রাঁসোয়া রাফ্রের জন্য লাভজনক বলে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত পুরো চিত্র বদলে যায়।
তখন জ্যাঁ কালমঁর বয়স ছিল ৯০ বছর। তার কোনো জীবিত উত্তরাধিকারী না থাকায় তিনি ফ্রান্সের প্রচলিত ‘ভিয়াজে’ ব্যবস্থার আওতায় নিজের অ্যাপার্টমেন্ট রাফ্রের কাছে বিক্রি করেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাফ্রে প্রতি মাসে জ্যাঁ কালমঁকে ২ হাজার ৫০০ ফরাসি ফ্রাঁ পরিশোধ করবেন। তবে জ্যাঁ কালমঁ জীবিত থাকা পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসের অধিকার তারই থাকবে। মৃত্যুর পর সম্পত্তিটির মালিকানা আইনজীবীর কাছে হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিল।
সে সময় ৪৭ বছর বয়সী রাফ্রে ধারণা করেছিলেন, নব্বই বছর বয়সী এক নারীর কাছে কয়েক বছর মাসিক অর্থ পরিশোধ করেই তিনি তুলনামূলক কম খরচে মূল্যবান একটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়ে যাবেন।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। জ্যাঁ কালমঁ ছিলেন অসাধারণ দীর্ঘায়ুর অধিকারী। শৈশবে তিনি তার বাবার দোকানে বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগকে দেখেছিলেন। ৮৫ বছর বয়সে তিনি ফেন্সিং শেখা শুরু করেন এবং ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত সাইকেল চালিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে বছর কেটে যেতে থাকে, কিন্তু জ্যাঁ কালমঁ সুস্থভাবেই বেঁচে থাকেন।
রাফ্রে টানা ৩০ বছর ধরে প্রতি মাসে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করেন কিন্তু ১৯৯৫ সালে ৭৭ বছর বয়সে তিনি নিজেই মারা যান। জীবদ্দশায় একবারের জন্যও ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সুযোগ পাননি।
তাতেও চুক্তির সমাপ্তি ঘটেনি। ফরাসি আইন অনুযায়ী, রাফ্রের মৃত্যুর পর তার পরিবারকেই জ্যাঁ কালমঁর কাছে মাসিক অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অবশেষে ১৯৯৭ সালে ১২২ বছর ১৬৪ দিন বয়সে জ্যাঁ কালমঁর মৃত্যু হয়। ততদিনে রাফ্রে ও তার পরিবার অ্যাপার্টমেন্টটির প্রকৃত বাজারমূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের রসবোধ অটুট রাখা জ্যাঁ কালমঁ পুরো ঘটনাটি এক বাক্যে তুলে ধরেছিলেন। তার ভাষায়, ‘জীবনে কখনো কখনো মানুষ খুব খারাপ চুক্তিও করে ফেলে।’

