কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা হলেও এই জলপথের ওপর ইরানের সার্বভৌম কর্তৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বরং হরমুজকে তিনি ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গালিবাফের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ওই সমঝোতা হরমুজ প্রণালির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কোনো নতুন বাস্তবতা তৈরি করেনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের সেবামূল্যের ক্ষেত্রে মাত্র ৬০ দিনের জন্য সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রণালিটির ওপর ইরানের কর্তৃত্ব বা সার্বভৌম অধিকার অপরিবর্তিত থাকবে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে যে ইরান এই জলপথকে সামরিকীকরণ করছে, তবে সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের কূটনৈতিক বিতর্ক বা চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক না কেন, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে ইরানের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসার প্রশ্ন নেই। তেহরানের দৃষ্টিতে এটি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নয়, বরং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।
গালিবাফ হরমুজ প্রণালিকে ‘ঐশ্বরিক উপহার’ বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই জলপথ ইরানের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত সুবিধা, যা দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফের এই বক্তব্য শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা নয়; এটি আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিও একটি স্পষ্ট সংকেত। সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরান কোনো ধরনের আপসের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায়, তেহরানের প্রতিটি অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

