ভারতে আবারও ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিল একাধিক মানুষের। রাজস্থানের দৌসা জেলায় দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে মালবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের পর মুহূর্তেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেক যাত্রী বের হওয়ার সুযোগই পাননি। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঋষিকেশ থেকে ইন্দোরগামী একটি স্লিপার বাস এক্সপ্রেসওয়েতে চলার সময় সামনে থাকা একটি মালবাহী ট্রেলারের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পরপরই বাসে আগুন ধরে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ট্রাকেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দুটি যানবাহনই সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
দৌসা জেলার পুলিশ সুপার পীযূষ দীক্ষিত জানিয়েছেন, কোলওয়া থানার তানাওয়াদ এলাকার জিরো পয়েন্টের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার সময় নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্র বলছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনা ঘটে। অন্য একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রাত ৩টা ১৫ থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পর আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে বাসের ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী আটকা পড়ে যান। উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে আগুনে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। তাদের দাবি, জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো পৌঁছানোর আগেই গ্রামের মানুষ আহতদের বের করে আনার চেষ্টা করেছিলেন।
আহত ২১ জনকে দ্রুত দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকেই গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দুর্ঘটনার আগে বাসচালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাসের লাগেজ রাখার অংশে সিগারেটের একাধিক কার্টন ছিল। তাদের মতে, এগুলোর কারণেই আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক গ্রামবাসীও একই ধরনের দাবি করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই তথ্য এখনো যাচাই করা হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী। তাদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও একই অভিযোগ তুলে বলেন, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই পুরো বাস আগুনে পুড়ে যায় এবং ততক্ষণে কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুড়ে যাওয়া বাস ও ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এই দুর্ঘটনার পর আবারও ভারতের মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা, দূরপাল্লার বাসচালকদের কর্মঘণ্টা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে যানবাহনের নিরাপত্তা, চালকদের পর্যবেক্ষণ এবং মহাসড়কে দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা আরও কার্যকর করা জরুরি। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, আগুন লাগার উৎস এবং বাসে কী ধরনের মালামাল বহন করা হচ্ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

