ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজেকে এক বিজয়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর ভাষায়, আমেরিকা যেন এমন এক সাফল্যের ধারায় এগোচ্ছে, যার ভারই নাকি সাধারণ মানুষ আর নিতে পারছে না। ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রীয় ভাষণে তিনি দেশবাসীর সামনে এমন এক ছবি আঁকেন, যেখানে আমেরিকা ক্রমাগত জিতছে, শত্রুরা পিছিয়ে যাচ্ছে, মিত্ররা আবার ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে, আর বিশ্ব বুঝে গেছে—যুক্তরাষ্ট্র আর উপহাসের পাত্র নয়। সেই ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে দেশ কাজ, উৎপাদন, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব—সব দিক থেকেই এক নতুন উচ্চতায় উঠেছে।
কিন্তু রাজনীতিতে ঘোষণা আর ইতিহাসের রায় এক জিনিস নয়। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যে নেতা নিজের সাফল্য নিজেই ঘোষণা করেন, তিনি অবশ্যই জনসমর্থন, আদালতের রায়, অর্থনীতি, যুদ্ধনীতি ও দলীয় নিয়ন্ত্রণকে নিজের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারেন। কিন্তু ইতিহাস সাধারণত আরও কঠোর বিচারক। ইতিহাস শুধু দেখে না কে কত জোরে বলেছে যে সে জিতেছে; ইতিহাস দেখে, সেই জয়ের ফল কত দিন টিকে ছিল, সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব কী হয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয়েছিল নাকি দুর্বল, আর গণতন্ত্রের ভিত কতটা নিরাপদ ছিল।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর সবচেয়ে বড় দাবি হলো—তিনি আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী করেছেন। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, তিনি এমন এক নেতা যিনি প্রচলিত নিয়ম ভাঙতে ভয় পান না। তাঁদের চোখে, ওয়াশিংটনের পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোকে নাড়িয়ে দেওয়া, অভিজাত শ্রেণিকে অস্বস্তিতে ফেলা, বিচারব্যবস্থা ও আমলাতন্ত্রের সীমা পরীক্ষা করা—এসবই তাঁর রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ। কিন্তু সমালোচকেরা একই ঘটনাকে দেখছেন অন্যভাবে। তাঁদের মতে, ট্রাম্পের রাজনীতির কেন্দ্রে আছে সংঘাত, বিভাজন ও ক্ষমতার সীমা ক্রমাগত বাড়ানোর চেষ্টা।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পকে কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা দিলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জায়গায় তাঁর ক্ষমতার সীমা টেনে দিয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের যে নির্বাহী আদেশ তিনি দিতে চেয়েছিলেন, আদালত তা আটকে দিয়েছে। আদালতের ব্যাখ্যা ছিল স্পষ্ট: সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা একজন রাষ্ট্রপতি একক সিদ্ধান্তে সরিয়ে দিতে পারেন না। এই রায় ট্রাম্পের অভিবাসননীতির জন্য বড় ধাক্কা, কারণ এটি তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বক্তব্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশকে আইনি বাধার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আরেকটি বড় ধাক্কা এসেছে শুল্কনীতিতে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে শুল্ককে অর্থনৈতিক যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তাঁর ধারণা, আমদানি পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক বসিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রকে চাপ দেওয়া যায়, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং আমেরিকার বাণিজ্যিক অবস্থান শক্তিশালী করা যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার আইন রাষ্ট্রপতিকে একতরফাভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপের অধিকার দেয় না। এর ফলে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের একটি বড় ভিত্তি আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তবে আদালতের সব রায় ট্রাম্পের বিপক্ষে যায়নি। অভিবাসন, সীমান্তনিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাহী ক্ষমতা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁর প্রশাসনকে সুবিধা দিয়েছে। এ জায়গাতেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের শক্তি দেখা যায়। তিনি শুধু নির্বাচনে জেতেননি; তিনি বিচারব্যবস্থার আদর্শিক ভারসাম্যও এমনভাবে বদলেছেন, যার প্রভাব তাঁর মেয়াদের বাইরে বহু বছর টিকে থাকতে পারে। ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রপতির প্রভাব শুধু তাঁর স্বাক্ষরিত আইনে নয়, আদালত, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রেখে যাওয়া পরিবর্তনেও মাপা হয়।
ট্রাম্পের সবচেয়ে দৃশ্যমান শক্তি এখনো তাঁর দলীয় নিয়ন্ত্রণ। রিপাবলিকান রাজনীতিতে তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁকে এড়িয়ে চলা কঠিন। তাঁর বিরোধিতা করলে প্রাইমারিতে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, তাঁর সমর্থন পেলে দলীয় ঘাঁটিতে সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও ফাটল দেখা যাচ্ছে। কংগ্রেসে তাঁর আইনগত এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বারবার বাধা আসছে। দলীয় আইনপ্রণেতারা সব সময় তাঁর নির্দেশে এককাট্টা থাকছেন না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই দুর্বলতা বড় রাজনৈতিক সংকেতে পরিণত হতে পারে।
বিদেশনীতি নিয়ে ট্রাম্পের আত্মপ্রশংসা আরও বড়। তিনি দাবি করেন, তাঁর সময়ে আমেরিকাকে আবার সবাই ভয় করে, সম্মান করে, গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ভয় আর নেতৃত্ব একই বিষয় নয়। বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি দেশকে অনিশ্চিত করে তোলা শক্তির লক্ষণ হতে পারে, আবার বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটও হতে পারে। ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা অনেক সময় বুঝতে পারেনি, ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে বিশ্বাসী, নাকি তাৎক্ষণিক চাপ ও ব্যক্তিগত দরকষাকষির রাজনীতিতে।
ইরান প্রশ্নে এই দ্বৈততা আরও স্পষ্ট। সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রথমে শক্তির প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু যুদ্ধের পরে যে সমঝোতা কাঠামো তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে বড় বিতর্ক আছে। কেউ বলছেন, এটি সংঘাত কমানোর বাস্তববাদী পথ। আবার কেউ মনে করছেন, তেহরানকে বড় ছাড় দিয়ে ওয়াশিংটন আসলে নিজের ঘোষিত কঠোর অবস্থান নরম করেছে। হরমুজ প্রণালী, নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক সীমা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এসব প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত নয়।
ন্যাটো নিয়েও ট্রাম্পের দাবি একই রকম জটিল। তিনি বহু বছর ধরে অভিযোগ করেছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা নিরাপত্তার খরচের যথাযথ অংশ দিচ্ছে না। তাঁর চাপের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর অঙ্গীকার জোরালো হয়েছে—এ কথা অস্বীকার করা কঠিন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটেও ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সাফল্যের বিনিময়ে মিত্রতার ভিত কতটা নড়বড়ে হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এক ধরনের কূটনৈতিক অর্জন হতে পারে, কিন্তু যদি একই সঙ্গে মিত্ররা আমেরিকার স্থিরতা নিয়ে সন্দেহ করে, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।
দেশের ভেতরে ট্রাম্পের আরেকটি বড় প্রকল্প হলো প্রশাসনিক কাঠামো ভাঙা বা ছোট করা। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে এই ধারণা জনপ্রিয় যে, ওয়াশিংটনের আমলাতন্ত্র জনগণের ইচ্ছাকে বাধা দেয়। ইলন মাস্কের নেতৃত্বে সরকারি ব্যয় ও সংস্থা সংকোচনের যে অভিযান চালানো হয়েছে, সমর্থকেরা সেটিকে অপচয় কমানোর সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, এই ধরনের দ্রুত ও আক্রমণাত্মক কাটছাঁট বহু জরুরি সেবা, বৈদেশিক সহায়তা ও মানবিক কার্যক্রমকে বিপর্যস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা নিয়ে বিতর্ক তার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি।
এই জায়গায় ট্রাম্প রাজনীতির একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনেন: অস্থিরতা কি নিজেই সাফল্যের প্রমাণ? তাঁর সমর্থকদের কাছে অস্থিরতা মানে পুরোনো ব্যবস্থার পতন। তাঁদের চোখে, আদালত, সংবাদমাধ্যম, আমলাতন্ত্র, বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা—সবই বহুদিন ধরে সাধারণ মানুষের বিপক্ষে কাজ করেছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংঘাতকে তাঁরা গণতন্ত্রের বিপদ নয়, বরং জনগণের প্রতিশোধ হিসেবে দেখেন।
কিন্তু গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনে জেতার নাম নয়। গণতন্ত্র হলো ক্ষমতার সীমা মানা, নাগরিক অধিকার রক্ষা করা, ভিন্নমতকে শত্রু না বানানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত আনুগত্যের যন্ত্রে পরিণত না করা। ট্রাম্পের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখানেই। তিনি প্রায় সব ইস্যুকে জয়-পরাজয়ের ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা সব সময় ব্যবসায়িক দরকষাকষি নয়। এখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের মানবিক, সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মূল্য আছে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই দ্বৈত বাস্তবতা দেখা যায়। বেকারত্ব কম, প্রবৃদ্ধি মোটামুটি শক্তিশালী, শেয়ারবাজার উঁচুতে—এসব সূচক ট্রাম্প প্রশাসনকে গর্ব করার সুযোগ দেয়। কিন্তু সাধারণ ভোটার অর্থনীতি বোঝেন ভিন্নভাবে। তাঁদের কাছে অর্থনীতি মানে ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে কি না, বাজারের ব্যাগ কতটা ভরছে, চিকিৎসা খরচ সামলানো যাচ্ছে কি না, শিশুর যত্নের খরচ পরিবারকে চাপে ফেলছে কি না। বড় সূচক ভালো হলেই মানুষের রান্নাঘরের টেবিলে স্বস্তি আসে না।
এ কারণেই ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি অর্থনীতির পরিসংখ্যান নয়, মানুষের অনুভূতি। যদি ভোটাররা মনে করেন, সরকার তাদের দৈনন্দিন ব্যথা বুঝছে না, তাহলে শেয়ারবাজারের রেকর্ড বা জিডিপির ভালো সংখ্যা ভোটের বাক্সে খুব বেশি কাজে নাও আসতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দল যদি বড় ধাক্কা খায়, তাহলে ট্রাম্পের ঘোষিত জয়যাত্রা রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
ইতিহাসের দৃষ্টিতে ট্রাম্প এক অস্বাভাবিক চরিত্র। তিনি শুধু নীতি বদলান না; তিনি রাজনৈতিক ভাষা বদলান। তিনি বিরোধীদের সঙ্গে মতভেদ করেন না, তাঁদের প্রায়ই বিশ্বাসঘাতক বা দেশের শত্রু হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বিচারব্যবস্থার সঙ্গে আইনি বিতর্ক করেন না, বরং সেটিকে নিজের পক্ষে বা বিপক্ষে থাকা শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্থায়ী জোটের চেয়ে ব্যক্তিগত শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে দেখেন।
তবু তাঁকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ট্রাম্পের প্রভাব বাস্তব। তিনি রিপাবলিকান রাজনীতির চরিত্র পাল্টেছেন, অভিবাসন বিতর্ককে কেন্দ্রীয় জায়গায় এনেছেন, আদালতের ভারসাম্য বদলেছেন, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন সংঘাত তৈরি করেছেন এবং আমেরিকার বৈশ্বিক পরিচয়কে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছেন। তাঁর সমর্থকেরা এটিকেই বিপ্লব বলবেন। বিরোধীরা বলবেন, এটি গণতান্ত্রিক ক্ষয়।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই: ট্রাম্পের জয়গুলো কি তাঁর প্রশাসনের মেয়াদ পেরিয়ে টিকে থাকবে? আব্রাহাম লিংকন ইতিহাসে আছেন কারণ তিনি ইউনিয়ন রক্ষা করেছিলেন। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট স্মরণীয় কারণ তিনি মহামন্দা ও বিশ্বযুদ্ধের সময় রাষ্ট্রকে নতুনভাবে সংগঠিত করেছিলেন। ট্রাম্প ইতিহাসে কী নামে থাকবেন—রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনকারী নেতা, নাকি প্রতিষ্ঠানভাঙা অস্থিরতার প্রতীক—তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ট্রাম্প নিজের স্কোরবোর্ডে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারেন। তাঁর জনসভায় করতালি উঠতে পারে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁর প্রতিটি সংঘাতকে সাহস বলে দেখতে পারেন। কিন্তু ইতিহাস অপেক্ষা করে। ইতিহাস প্রচারের শব্দ কমে যাওয়ার পর হিসাব নেয়—কোন প্রতিষ্ঠান বেঁচে রইল, কোন অধিকার রক্ষা পেল, কোন ক্ষত গভীর হলো, আর সাধারণ মানুষ আসলে কতটা ভালো থাকল।
তাই ট্রাম্পের বর্তমান জয়ধ্বনি যতই উচ্চকণ্ঠ হোক, চূড়ান্ত রায় এখনো লেখা হয়নি। সেই রায় লিখবে আদালতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, নির্বাচনের ফল, অর্থনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতা, যুদ্ধ ও শান্তির পরিণতি, এবং সবচেয়ে বড় কথা—আমেরিকান গণতন্ত্র কতটা চাপ সহ্য করতে পারল।

