Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, জুলাই 1, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » হরমুজ থেকে হাজার কোটি ডলারের স্বপ্ন দেখছে ইরান
    আন্তর্জাতিক

    হরমুজ থেকে হাজার কোটি ডলারের স্বপ্ন দেখছে ইরান

    হাসিব উজ জামানজুলাই 1, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    যুদ্ধ শুধু ধ্বংস আনে না; অনেক সময় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকেই নতুন কৌশল, নতুন দরকষাকষি এবং নতুন অর্থনৈতিক হিসাব তৈরি হয়। ইরানের সাম্প্রতিক হরমুজ পরিকল্পনা ঠিক সেই বাস্তবতারই উদাহরণ। যুদ্ধের ক্ষতি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও তেহরান এখন এমন এক জায়গা থেকে আয় করার পথ খুঁজছে, যা বহু দশক ধরে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল সমুদ্রপথগুলোর একটি।

    হরমুজ প্রণালী শুধু একটি জলপথ নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির ধমনী। পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও তরল গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশের বেশি এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে গেছে। তাই হরমুজে সামান্য উত্তেজনাও তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, বীমা খরচ এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ইরান এখন এই কৌশলগত গুরুত্বকেই অর্থনৈতিক সুযোগে রূপ দিতে চাইছে। তেহরানের ধারণা, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা, নৌপথ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের নামে অর্থ আদায় করা যেতে পারে। এটি সরাসরি টোল নয়—ইরান একে সেবা-ফি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। কিন্তু নাম যাই হোক, বাস্তবে এর অর্থ হলো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলপথের ওপর নতুন আর্থিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

    মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা দেখছে। এই অঙ্কটি এত বড় যে, সেটি শুধু ইরানের অর্থনীতির জন্য নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ ইরান যদি সত্যিই এই অর্থ আদায় করতে পারে, তাহলে তা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির জন্য বিশাল নগদ প্রবাহ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তেহরান হরমুজ প্রণালীর ওপর এমন এক ধরনের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ পাবে, যা আগে পুরোপুরি তার হাতে ছিল না।

    তবে ইরানের কৌশল এবার আগের মতো একতরফা নয়। তেহরান বুঝেছে, শুধু নিজের নামে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করলে তা দ্রুত আন্তর্জাতিক বিরোধিতার মুখে পড়বে। তাই তারা উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের অংশীদার করার চেষ্টা করছে। ওমানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচল ব্যবস্থায় ইরান ও ওমান দুপক্ষেরই ভৌগোলিক ভূমিকা আছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর বিদ্যমান নৌচলাচল বিভাজন ব্যবস্থা ইরান ও ওমানের প্রস্তাবেই গৃহীত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল সংঘর্ষ কমানো এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।

    ইরানের যুক্তি হলো, যদি এই পথের নিরাপত্তা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচল তদারকি এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলো নেয়, তাহলে তার জন্য অর্থ নেওয়া অযৌক্তিক নয়। তেহরান এটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর কর হিসেবে দেখাতে চায় না; বরং সমুদ্রপথের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার বিনিময়ে ফি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। এই ভাষাগত পার্থক্যই এখন পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে।

    কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনাকে খুবই বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করার জন্য কোনো দেশ এককভাবে অর্থ আদায় করতে পারে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে বলেছেন, হরমুজে টোল বা বাধ্যতামূলক ফি বসানো হলে তা বিশ্বজুড়ে অন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও একই ধরনের দাবি উসকে দিতে পারে। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই আপত্তির পেছনে শুধু নৌচলাচলের স্বাধীনতার প্রশ্ন নেই; এর সঙ্গে জড়িত তেলের বাজার, মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা, চীনের জ্বালানি আমদানি, ইউরোপের সরবরাহব্যবস্থা এবং উপসাগরীয় রাজনীতির ভারসাম্য। হরমুজে যদি নতুন খরচ যুক্ত হয়, তাহলে তা সরাসরি জাহাজমালিক, তেল কোম্পানি, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপ ফেলতে পারে। অর্থাৎ, ইরানের আয়ের পরিকল্পনার মূল্য শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষও পরিশোধ করতে পারে উচ্চ জ্বালানি দামের মাধ্যমে।

    ইরান অবশ্য দাবি করতে পারে, পৃথিবীর অন্য জলপথেও সেবা বাবদ অর্থ নেওয়ার নজির আছে। তুরস্কের দারদানেলেস ও বসফরাস অঞ্চলে ঐতিহাসিক চুক্তির ভিত্তিতে কিছু ফি কাঠামো আছে। মালাক্কা প্রণালীতেও নিরাপত্তা ও নৌচলাচল সহায়তার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার মডেল আছে। কিন্তু হরমুজের বাস্তবতা আলাদা। এখানে ইরান শুধু নিরাপত্তা সেবা দিতে চায় না; সে একই সঙ্গে রাজনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের হিসাবও করছে।

    মালাক্কা প্রণালীর সঙ্গে তুলনা করলেও একটি বড় পার্থক্য দেখা যায়। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বহু দেশের সহযোগিতায় এবং আন্তর্জাতিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। কিন্তু হরমুজে ইরানের প্রতি আস্থা অত্যন্ত সীমিত। সাম্প্রতিক সংঘাত, জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা, সামরিক হুমকি এবং নিষেধাজ্ঞার ইতিহাসের কারণে বহু দেশ আশঙ্কা করছে, নিরাপত্তা ফির নামে ইরান বাস্তবে রাজনৈতিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

    আইনগত জটিলতাও খুব বড়। সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ সনদে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি জাহাজ শুধু জলসীমা দিয়ে অতিক্রম করছে—এই কারণেই তার ওপর অর্থ আদায় করা যাবে না। তবে নির্দিষ্ট কোনো বাস্তব সেবা দেওয়া হলে সেই সেবার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার প্রশ্ন আলাদা হতে পারে। এই জায়গাটিই ইরান ব্যবহার করতে চাইছে। কিন্তু সমস্যা হলো, সেবাটি স্বেচ্ছামূলক হবে নাকি বাধ্যতামূলক—এই প্রশ্নের উত্তরই বিরোধের মূল।

    যদি জাহাজকে বলা হয়, নির্দিষ্ট বীমা না নিলে বা নির্দিষ্ট পথ না মানলে হরমুজ পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বা নিষিদ্ধ, তাহলে সেটি কার্যত বাধ্যতামূলক ব্যবস্থায় পরিণত হয়। তখন এটি আর সাধারণ সেবা ফি থাকে না; বরং আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হয়ে দাঁড়ায়। ইরান ইতিমধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য আগে থেকে নিবন্ধনের মতো প্রক্রিয়ার কথা তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণও বাড়ে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এই পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক। তাদের আশঙ্কা, হরমুজে নতুন বাস্তবতা ইরান এককভাবে চাপিয়ে দিতে চাইলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এই দেশগুলোর তেল, গ্যাস, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা অনেকাংশেই হরমুজের ওপর নির্ভরশীল। তারা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না, আবার হরমুজের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে ছেড়ে দিতেও চায় না।

    ওমানের অবস্থান আরও সূক্ষ্ম। একদিকে ওমান ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করে এবং ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে। অন্যদিকে, ওমানও চায় না হরমুজ এমন এক পথে যাক, যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয় বা উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন চাপের মুখে পড়ে। ফলে ওমান যদি কোনো প্রস্তাবে থাকে, সেটি সম্ভবত নিরাপত্তা ও নৌচলাচল ব্যবস্থাপনার আঞ্চলিক কাঠামো হিসেবে থাকবে; ইরানের একতরফা রাজস্ব আদায়ের যন্ত্র হিসেবে নয়।

    এই পরিকল্পনার অর্থনৈতিক দিক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাজনৈতিক দিক আরও গভীর। ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা সংকট, তেল রপ্তানির বাধা এবং ব্যাংকিং বিচ্ছিন্নতার মুখে আছে। হরমুজ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব হলে তা ইরানের জন্য নতুন আয়, নতুন দরকষাকষির শক্তি এবং নতুন কূটনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি এমন এক পথে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে প্রতিটি জাহাজ চলাচলই রাজনৈতিক সংকেত হয়ে দাঁড়াবে।

    ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, হরমুজ প্রণালী তার ভূগোলের শক্তিকে অর্থনীতিতে রূপ দিতে পারে। সামরিক শক্তি দিয়ে প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিলে বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়; কিন্তু নিরাপত্তা, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার নামে অর্থ দাবি করলে সেটি নরম কূটনৈতিক ভাষায় বলা যায়। তেহরান সম্ভবত সেই পথই খুঁজছে—সংঘাত নয়, নিয়ন্ত্রণ; অবরোধ নয়, আয়; সরাসরি হুমকি নয়, নিয়ম তৈরির ক্ষমতা।

    কিন্তু এই কৌশলের ঝুঁকিও কম নয়। প্রথমত, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া এমন ব্যবস্থা টেকসই হবে না। দ্বিতীয়ত, বড় জাহাজ কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানের ব্যবস্থাকে বিশ্বাস না করে, তাহলে তারা বিকল্প পথ, বাড়তি বীমা বা রাজনৈতিক সুরক্ষার দিকে যাবে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি এটিকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পন্থা হিসেবে দেখে, তাহলে নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। চতুর্থত, উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা যদি একমত না হয়, তাহলে পরিকল্পনাটি আঞ্চলিক বিভাজন আরও বাড়াবে।

    আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, ইরান আসলেই কি হরমুজের নিরাপত্তা সেবা দেওয়ার মতো আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন করেছে? শুধু ভৌগোলিক অবস্থান থাকলেই কেউ বৈশ্বিক জলপথের ব্যবস্থাপক হয়ে যায় না। এর জন্য দরকার স্বচ্ছ নিয়ম, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বীমা কাঠামো, নিরাপদ নৌপথ, নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি। এই জায়গাগুলোতে ইরানের অবস্থান এখনো দুর্বল।

    হরমুজ প্রণালী তাই এখন শুধু তেলের পথ নয়; এটি যুদ্ধ-পরবর্তী দরকষাকষির কেন্দ্র। ইরান বুঝেছে, এই জলপথ নিয়ে বিশ্বকে উদ্বিগ্ন করার ক্ষমতা তার আছে। কিন্তু উদ্বেগ তৈরি করা আর স্থায়ী আয়ব্যবস্থা তৈরি করা এক জিনিস নয়। হুমকি দিয়ে সাময়িক ছাড় আদায় করা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব পেতে হলে আস্থা, আইনগত বৈধতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা লাগে।

    যদি ইরান এই পরিকল্পনাকে আঞ্চলিক সহযোগিতা, স্বচ্ছ সেবা এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে, তাহলে হরমুজ থেকে কিছু ধরনের বৈধ অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু যদি এটি বাধ্যতামূলক টোল, রাজনৈতিক চাপ বা একতরফা নিয়ন্ত্রণে পরিণত হয়, তাহলে তা নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। তখন হরমুজ আয়ের উৎস নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী আরেকটি অস্থিরতার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

    শেষ পর্যন্ত ইরানের হরমুজ পরিকল্পনা একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আছে: এটি কি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার নামে বৈধ আঞ্চলিক অর্থনীতি, নাকি বৈশ্বিক তেলপথের ওপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা? উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালী আগের মতো নিরপেক্ষ জলপথ হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে গেছে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, তেলবাজার, বীমা খরচ এবং ভূরাজনীতির চাপ একে নতুন বাস্তবতায় নিয়ে এসেছে।

    ইরান হয়তো এই বাস্তবতা থেকে আয় করতে চায়। কিন্তু বিশ্ব চাইবে, এই জলপথ যেন কোনো এক দেশের অর্থনৈতিক অস্ত্র না হয়ে ওঠে। তাই হরমুজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু ইরানের ইচ্ছার ওপর নয়; নির্ভর করবে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্য, মার্কিন প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপের ওপর।

    হরমুজ থেকে ইরান অর্থ আয় করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে—যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজের লড়াই শেষ হয়নি। এখন সেই লড়াই বন্দুকের নয়, বরং আইন, বাণিজ্য, বীমা, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ট্রাম্পের জয়যাত্রা কতটা সত্য, কতটা প্রচার?

    জুলাই 1, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানে অস্ত্র সরবরাহ ঘিরে প্রতিবাদ – আলোচনায় ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ

    জুলাই 1, 2026
    আন্তর্জাতিক

    মোদির ভারতে উন্নয়ন ও বিতর্কের দ্বিমুখী গল্প

    জুলাই 1, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.