পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। দ্রুতগতিতে চলা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি সড়ক থেকে প্রায় ২০ মিটারেরও বেশি গভীর খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার শহরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে ঝোব জেলার দানা সার এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয় যানটি।
ঝোব জেলার জরুরি সেবা কেন্দ্রের প্রধান সানাউল্লাহ শেরানি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজের শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। একই সঙ্গে বাসে অনুমোদিত আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। কারণ পথে বিকল হয়ে যাওয়া আরেকটি বাসের যাত্রীদেরও এই বাসে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফলে যানটি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসটি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট, অর্থাৎ ২১ থেকে ২৪ মিটার গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় বাসটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেলুচিস্তান সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ বলেন, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া—দুই প্রদেশের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটির বিভিন্ন পাহাড়ি মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত গতি, ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন, দুর্বল সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরে শিথিলতার কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা, পাহাড়ি সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আবারও পাকিস্তানের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘপথের যাত্রীবাহী বাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি রুটে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।

