যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে সামনে রেখে তিনি দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু খুব ভালো করেই জানেন ‘আসল বস’ কে।
রোববার (৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। পরে আল জাজিরা সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করে।
ট্রাম্প জানান, ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটোর উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং নেতানিয়াহু জানেন, ‘এখানে আসল বস কে।’
এই মন্তব্যকে অনেকেই ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী রাজনৈতিক ভাষার অংশ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরায়েলের এক সরকারি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছেন, বৈঠকটি ঘোষিত সময়ের পরিবর্তে আরও এক সপ্তাহ পরে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠকের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছিল, দুই নেতা ইতোমধ্যে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং খুব শিগগির যুক্তরাষ্ট্রে মুখোমুখি বৈঠকে বসার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, এটি হবে ফেব্রুয়ারি মাসের পর যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর প্রথম সরকারি সফর। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সেই ফেব্রুয়ারির সফরেই তিনি ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের একটি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা এবং নীতিনির্ধারক মনে করেন, ইরান ইস্যুতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কৌশল সঠিক ছিল না। তাদের মূল্যায়নে, ওই নীতিগুলোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বৈঠকে গাজা পরিস্থিতি, ইরান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৌশলই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। তবে ট্রাম্পের ‘আসল বস’ মন্তব্য ইতোমধ্যেই বৈঠকের আগেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

