Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, জুলাই 6, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বিশ্বের কঠিন বাস্তবতার সামনে এবার একা ইউরোপ
    আন্তর্জাতিক

    বিশ্বের কঠিন বাস্তবতার সামনে এবার একা ইউরোপ

    হাসিব উজ জামানজুলাই 6, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    জশকা ফিশারের বিশ্লেষণ ইউরোপের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। তাঁর মূল বক্তব্য সরল হলেও এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বড়: যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউরোপ থেকে ধীরে ধীরে সরে যায়, তাহলে ইউরোপকে আর আগের মতো বাইরের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সুযোগ থাকবে না। রাশিয়ার আগ্রাসন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন এবং ইউরোপের ভেতরের নেতৃত্বসংকট—সব মিলিয়ে মহাদেশটি এমন এক বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে নিজেকে রক্ষা করার দায় নিজেকেই নিতে হবে।

    দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে দূরে সরে যাচ্ছে—এটাই ফিশারের আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু সেনা উপস্থিতি কমানো বা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর চেয়েও বড় ঘটনা হলো, ১৯৪৫ সাল থেকে পশ্চিম ইউরোপে এবং ১৯৯০ সালের পর পুরো ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র যে বাস্তব রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে, সেই ভূমিকা থেকেও ওয়াশিংটন সরে যাচ্ছে।

    এই পরিবর্তন ইউরোপের জন্য ঐতিহাসিক। কারণ বিংশ শতকের শুরু থেকে ইউরোপ নিজে নিজে বড় ভূরাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার অভ্যাস হারিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠেছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে। শীতল যুদ্ধের সময় এই নির্ভরতা আরও দৃঢ় হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও ইউরোপ নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করে এগিয়েছে। এখন সেই বাস্তবতা বদলাচ্ছে।

    ইউরোপ মানে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন নয়

    ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেক সময় শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সামনে রাখা হয়। কিন্তু ফিশার মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি আরও বিস্তৃত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনীতি, বাণিজ্য, আইন, বাজার, মুদ্রা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় অবশ্যই কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে। অভিন্ন বাজার, শুল্কব্যবস্থা, অভিন্ন মুদ্রা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বহির্বাণিজ্য—এসব ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে।

    কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে ন্যাটো এখনো অপরিহার্য। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটোর ইউরোপীয় ও কানাডীয় অংশ আগের মতো শক্তিশালী থাকবে না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক পরাশক্তির সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে প্রশ্ন দাঁড়ায়: যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের মতো নেতৃত্ব না দেয়, তাহলে ইউরোপকে নেতৃত্ব দেবে কে?

    এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কোনো একক ইউরোপীয় রাষ্ট্রের হাতে সেই পরিমাণ ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সামর্থ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব নেই, যা দিয়ে সে পুরো ইউরোপকে একা নেতৃত্ব দিতে পারে। ইউরোপ অনেক রাষ্ট্রের সমষ্টি, কিন্তু এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক রাষ্ট্র নয়। তার অর্থনৈতিক শক্তি আছে, কিন্তু কৌশলগত ঐক্য দুর্বল। তার বাজার বড়, কিন্তু নিরাপত্তা-সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিভাজন স্পষ্ট।

    ফ্রান্স ও জার্মানি ছাড়া নেতৃত্ব অসম্ভব

    ফিশারের বিশ্লেষণে ফ্রান্স ও জার্মানি ইউরোপীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। কারণ কার্যকর নেতৃত্বের জন্য শুধু অর্থনৈতিক ক্ষমতা যথেষ্ট নয়। দরকার দীর্ঘ ঐতিহাসিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং জনগণের মধ্যে ইউরোপীয় প্রকল্পের প্রতি বিস্তৃত সমর্থন। তাঁর মতে, এই দুই শর্ত একসঙ্গে পূরণ করার মতো অবস্থানে মূলত ফ্রান্স ও জার্মানিই আছে।

    ইউরোপীয় সংহতির ইতিহাসও এই কথাকে সমর্থন করে। ইউরোপের অগ্রগতি বহুবার ফ্রান্স-জার্মান যৌথ উদ্যোগের ওপর দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর এই দুই দেশের পুনর্মিলনই ইউরোপীয় ঐক্যের ভিত্তি তৈরি করে। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল হলে ইউরোপীয় নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে পড়ে।

    তবে এখানেই জটিলতা। যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া জার্মানির জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল। কারণ কয়েক দশক ধরে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শুধু রাশিয়া বা অন্য সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দেয়নি, বরং জার্মানির প্রতিবেশী দেশগুলোকেও আশ্বস্ত করেছে। অতীতের যুদ্ধস্মৃতি থেকে অনেক ইউরোপীয় দেশের মনে জার্মান শক্তির পুনরুত্থান নিয়ে সতর্কতা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি সেই উদ্বেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে।

    এখন যদি জার্মানি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা নিতে চায়, তাকে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হবে, কিন্তু আধিপত্য দেখানো যাবে না। শক্তিশালী হতে হবে, কিন্তু ইতিহাসের প্রতি অসংবেদনশীল হওয়া যাবে না। ফিশারের ভাষায়, জার্মানির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নেতৃত্ব ও প্রাধান্যের মাঝখানে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করা।

    প্রতিরক্ষা ইউনিয়ন এখন জরুরি প্রয়োজন

    রাশিয়ার আগ্রাসন ইউরোপের নিরাপত্তা-ধারণাকে বদলে দিয়েছে। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, ইউরোপের পূর্ব সীমান্তে সামরিক সংঘাত কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয়; এটি বাস্তব। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক অবস্থান যদি ইউরোপের প্রতি ক্রমশ শীতল বা বৈরী হয়ে ওঠে, তাহলে ইউরোপের সামনে নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প কমে যায়।

    এই কারণেই ফিশার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ইউনিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ের প্রধান কাজ হওয়া উচিত এমন একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি করা, যেখানে ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে।

    কিন্তু সমস্যা হলো, এই বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে ফ্রান্স-জার্মান নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্বই এখন দুর্বল। বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান ব্যবস্থা প্রকল্পের ভাঙনকে ফিশার অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, এই ব্যর্থতা যদি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হয়, তাহলে ইউরোপের কৌশলগত স্বনির্ভরতার স্বপ্ন শুরুতেই বিপর্যস্ত হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক। কিন্তু ফ্রান্স-জার্মান সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা তখনই উপকারী, যখন তার ভিত্তিতে পারস্পরিক আস্থা থাকে। আস্থা না থাকলে প্রতিযোগিতা সহযোগিতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবেশে ইউরোপের পক্ষে এমন আত্মঘাতী বিভাজন বহন করা কঠিন।

    রাজনৈতিক দুর্বলতা ইউরোপের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

    ইউরোপের এই সংকটের সময় ফ্রান্স ও জার্মানির রাজনৈতিক অবস্থাও শক্তিশালী নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর হাতে আর প্রায় এক বছর সময় আছে। এরপর ফ্রান্সে মারিন লে পেনের জাতীয় সমাবেশ দলের মতো ডানপন্থী ইউরোপ-সংশয়ী শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। তাঁর সরকারের জনপ্রিয়তা কম এবং জার্মানির অর্থনৈতিক সূচকও উদ্বেগজনক। অর্থাৎ যেই মুহূর্তে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি দৃঢ় নেতৃত্ব দরকার, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্যারিস ও বার্লিন রাজনৈতিক দুর্বলতায় ভুগছে।

    এই দুর্বলতা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমস্যা নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর। ইউরোপ যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে বাইরের শক্তিগুলো তার দুর্বলতাকে কাজে লাগাবে। রাশিয়া সামরিক চাপ বাড়াতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউরোপকে দ্বিতীয় সারিতে ঠেলে দিতে পারে, আর ইউরোপের ভেতরের জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো ঐক্যের বদলে বিভাজনকে উসকে দিতে পারে।

    ইউরোপের শান্তির যুগ কি শেষ হতে চলেছে

    ফিশারের লেখার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো তাঁর শেষ সতর্কতা। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয়রা ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিতে আছে। কিন্তু ইতিহাস সবসময় দয়ালু নয়। কখনো কখনো ইতিহাস নিষ্ঠুর ও ক্ষমাহীন হয়ে ওঠে। এই কথার মধ্যে শুধু আবেগ নেই, আছে বাস্তব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা।

    ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে ধরে নিয়েছিল, যুদ্ধ তার অতীতের বিষয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতা, অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা—সব মিলিয়ে ইউরোপ বিশ্বাস করেছিল, মহাদেশীয় যুদ্ধের যুগ শেষ। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ সেই ধারণায় আঘাত করেছে। এখন আবার ইউরোপকে ভাবতে হচ্ছে সীমান্ত, সামরিক শক্তি, গোলাবারুদ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক ঐক্যের কথা।

    এই বাস্তবতা ইউরোপের জন্য অস্বস্তিকর, কারণ অর্থনৈতিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও সামরিক ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে সে দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা ইউরোপকে নিরাপত্তা দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গঠনে অলসও করেছে। এখন সেই বিলাসিতা আর নেই।

    ইউরোপের সামনে তিনটি বড় পরীক্ষা

    প্রথম পরীক্ষা হলো রাজনৈতিক ঐক্য। ইউরোপীয় দেশগুলো কি নিজেদের জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারবে? প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। সাধারণ মানুষ অর্থনীতি, চাকরি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এমন সময়ে প্রতিরক্ষায় বড় বিনিয়োগ রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তবু নিরাপত্তা দুর্বল হলে অর্থনীতিও নিরাপদ থাকে না—এই বাস্তবতা ইউরোপীয় নেতাদের জনগণকে বোঝাতে হবে।

    দ্বিতীয় পরীক্ষা হলো নেতৃত্ব। ফ্রান্স ও জার্মানি কি আবার সেই ঐতিহাসিক সমঝোতায় ফিরতে পারবে, যা ইউরোপীয় সংহতির ভিত্তি তৈরি করেছিল? ফ্রান্স সামরিক ও কৌশলগত ভাবনায় বেশি আগ্রহী, জার্মানি অর্থনৈতিক সতর্কতা ও ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার কারণে অনেক সময় ধীর। এই দুই ধারা যদি সমন্বিত হয়, ইউরোপ শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু যদি দ্বন্দ্ব বাড়ে, তাহলে ইউরোপের প্রতিরক্ষা স্বপ্ন কাগজে আটকে থাকবে।

    তৃতীয় পরীক্ষা হলো যুক্তরাষ্ট্র-পরবর্তী মানসিকতা। ইউরোপ কি এখনো অপেক্ষা করবে যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এসে সব ঠিক করে দেবে? নাকি ইউরোপ বুঝবে যে বিশ্বব্যবস্থা বদলে গেছে? ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান শুধু একজন নেতার নীতি নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইউরোপের গুরুত্ব কমে যাওয়ারও ইঙ্গিত হতে পারে। ফলে ইউরোপকে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিতে হবে।

    এবার ইউরোপকে নিজেকেই বাঁচাতে হবে

    ফিশারের মূল বার্তা হলো—ইউরোপ আর আগের পৃথিবীতে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব অনিশ্চিত, রাশিয়ার হুমকি বাস্তব, ইউরোপের ভেতরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি বাড়ছে, আর ফ্রান্স-জার্মান নেতৃত্ব দুর্বল। এই চারটি চাপ একসঙ্গে ইউরোপকে এমন এক সন্ধিক্ষণে এনেছে, যেখানে সিদ্ধান্তহীনতা নিজেই বিপদ হয়ে উঠতে পারে।

    ইউরোপ যদি সত্যিই নিজেকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সত্তা হিসেবে দেখতে চায়, তাহলে তাকে কথার চেয়ে কাজে এগোতে হবে। প্রতিরক্ষা ইউনিয়ন, যৌথ সামরিক প্রকল্প, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনগণের রাজনৈতিক সমর্থন—সবকিছু একসঙ্গে দরকার। শুধু অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে আজকের বিশ্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।

    ৮০ বছরের শান্তি ইউরোপের বড় অর্জন। কিন্তু শান্তি ধরে রাখতে হলে শক্তি, ঐক্য ও দূরদর্শিতা দরকার। ইতিহাস কাউকে চিরদিন রেহাই দেয় না। ইউরোপের সামনে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: সে কি নিজেকে রক্ষা করার মতো রাজনৈতিক সাহস দেখাবে, নাকি পুরোনো ভরসার অপেক্ষায় সময় হারাবে?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    ইসরায়েলের হাতে ড. হুসাম আবু সাফিয়াকে রক্ষায় পশ্চিমা বিশ্ব পদক্ষেপ নেবে?

    জুলাই 6, 2026
    মতামত

    কেন কানাডা ইউক্রেনের পাশে থাকলেও ‘গাজা’র পাশে নয়?

    জুলাই 6, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ট্রাম্পের চাপে বদলে যাচ্ছে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ

    জুলাই 6, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.