ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ভয়াবহ দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে ইতোমধ্যে পিরেনিস-ওরিয়েন্তালিস বিভাগের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রায় ১২ হাজার ১০০ একর জমির সমান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনরাত কাজ করছেন প্রায় ৮০০ জন দমকলকর্মী।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা এখনো কমেনি। বরং প্রবল গরম, শুষ্ক পরিবেশ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পিরেনিস-ওরিয়েন্তালিস বিভাগের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের প্রধান কর্নেল এরিক বেলগিওনিও বলেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় খুব শিগগির দাবানল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন না তারা। এখন তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো আগুন যাতে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
ফ্রান্সে চলতি বছরের তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ২০ জুন থেকে দেশজুড়ে তীব্র গরম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দেশের ৬১টি বিভাগে দৈনিক তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আর দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বনভূমিকে অত্যন্ত শুষ্ক করে তুলেছে। ফলে সামান্য আগুনও দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে এবং নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে প্রবল গরমের কারণে দমকলকর্মীদের উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজও আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দাবানলপ্রবণ এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে। আগুনের বিস্তার রোধে বনাঞ্চলের আশপাশে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের মাত্রা এবং দাবানলের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করায় দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে এমন দুর্যোগ এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।

