পাকিস্তানের একটি প্রদেশ বেলুচিস্তান। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর বেলুচিন্তানই এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ।
পাকিস্তান ছাড়াও সাবেক বেলুচিস্তানের অংশ বিশেষ রয়েছে আফগানিস্তান এবং ইরানের মধ্যে। ভৌগোলিক জাদুকরী স্থান হিসেবে পরিচিত বেলুচিস্তানের মোট আয়তন বর্তমান পাকিস্তানের মোট আয়তনের শতকরা ৪৩ ভাগ তথা এক লক্ষ একত্রিশ হাজার আটশত পঞ্চান্ন বর্গমাইল। এটি আয়তনে ব্রিটিশ দ্বীপ থেকে বড় এবং গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও হল্যান্ডের সম্মিলিত আয়তন থেকেও বেশি।
গত ৭০ বছর ধরে বেলুচিস্তান অবহেলিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায়। ১৯৪৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বেলুচিস্তানের পার্লামেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে একত্রিতকরণের বিরোধিতা করে। কিন্তু ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রদেশটি জবরদখল করে। সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও এর জনসংখ্যা পাকিস্তানে সবচেয়ে কম।
সরকারি বিধি ব্যবস্থায় বৈষম্য এবং দারিদ্র্যের কারণে ক্ষুব্ধ বেলুচিস্তানের মানুষ। বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বেলুচিস্তানের মানুষ খুবই দরিদ্র। মাত্র ২৫ ভাগ মানুষ সেখানে শিক্ষিত। অথচ পাকিস্তানে শিক্ষার হার শতকরা ৪৭ ভাগ। বেলুচিস্তানের বেকারত্বের হার ৩০ ভাগ। পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশ গ্যাসের মজুদ বেলুচিস্তানে কিন্তু অল্প কয়েকটি শহরে বিদ্যুত্ সরবরাহ আছে।
বেলুচদের অভিযোগ, বেশিরভাগ পরমাণু পরীক্ষা বেলুচিস্তানে চালানো হয়। তাদের খনিজ সম্পদ ব্যবহূত হচ্ছে পুরো পাকিস্তানের অগ্রগতিতে। এ বৈষম্যের সর্বশেষ নমুনা গোয়াদার বন্দর। প্রদেশটির হাজার হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে অথচ বালুচদের সেখানে সম্পৃক্ত করা হয়নি। প্রথম থেকেই বৈষম্য চলছে এই প্রদেশটির ব্যাপারে।

বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হয়। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের মতো পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেলুচবাসীকে নানাভাবে বঞ্চিত করে রেখেছে। ফলে বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় বেলুচিস্তান উন্নয়নের দিক দিয়ে নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।বাঙালিদের মতো বেলুচরা তাই দীর্ঘদিন থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির সংঘাত নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু সেই সংঘাতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হলেও বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা প্রায় অসম্ভব।
স্বাধীনতার জন্য বালুচবাসীরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে তাদের ওই সশস্ত্র সংগ্রাম অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে।
শের মোহাম্মদ মারির নেতৃত্বে ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত আন্দোলন করে বেলুচিস্তানের কয়েকটি উপজাতি। ১৯৬৭ সাল থেকে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে বালুচ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন। সম্প্রতি বেলুচদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানকার মাদ্রাসাগুলোতে ঢুকে পড়ছে তালেবান। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেলুচিস্তানের ৪০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছে এবং ১০ হাজার মানুষ খুন হয়েছে।
স্বাধীন বেলুচিস্তান প্রদেশের দাবিতে লড়াই করে আসছে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এবছরের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত ৭৪টি জঙ্গি হামলায় অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৫৩ জনই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

