নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতা বা বিতর্ক তাকে এই সফর থেকে বিরত রাখতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, মেয়র মামদানির বক্তব্য শহরে বিভাজন, ঘৃণা এবং ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে।
রোববার (২৬ জুলাই) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি নির্ধারিত সময়েই নিউইয়র্কে যাবেন এবং জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন। তার ভাষায়, তিনি বিশ্ববাসীর সামনে ইসরায়েলের বক্তব্য তুলে ধরবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলবেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তিনি নিউইয়র্কে স্বাগত নন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বানও জানান। তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বরে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তার প্রশাসন আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এর জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার প্রতি পরোক্ষ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মামদানির পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওই হামলা উদ্যাপন করেছিলেন। তবে সাক্ষাৎকারে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
সাক্ষাৎকারে গাজা যুদ্ধ প্রসঙ্গেও কথা বলেন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা গণহত্যার অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, হামাস বেসামরিক জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, বেসামরিক প্রাণহানির দায়ও হামাসের ওপর বর্তায়।
নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন মেয়রের দায়িত্ব সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু তার অভিযোগ, মামদানির বক্তব্য নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। তিনি সাম্প্রতিক এক সিনাগগের বাইরে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্যের পরদিনই ওই হামলা ঘটে। যদিও এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যরাষ্ট্র নয়। ফলে আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের ওপর কোনো সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধু দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি গাজা যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ইসরায়েলকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিভাজনেরও প্রতিফলন। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

