যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্তে যুদ্ধ শুরু বা শেষ হবে না—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণের অধিকার কোনো একক রাষ্ট্রের হাতে নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার প্রভাব এখন তাকে সামলাতে হচ্ছে।
রোববার (২৬ জুলাই) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ওয়াশিংটন নিজের ইচ্ছামতো যুদ্ধ শুরু বা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সংকট তৈরি করেছে, যার পরিণতি এখন তাদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এর আগে একই দিনে ইরানের সামরিক মুখপাত্র আমির মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, টানা দুই রাত যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা না চালানোয় ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছে। তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতায় সাময়িক বিরতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালাতে আপাতত নির্দেশ দেননি। এর ফলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা নিয়মিত সামরিক হামলায় সাময়িক বিরতি এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায় এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের হামলা সাময়িকভাবে কমে এলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। রাজনৈতিক বক্তব্য, সামরিক প্রস্তুতি এবং পারস্পরিক সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যায়, সংঘাতের সম্ভাবনা এখনো রয়ে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহ অনেকটাই নির্ভর করবে।

