আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল থাকা অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে তার এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইসরায়েলের আরবি ভাষার সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে জানানো হয়েছে, সফরকালে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সপ্তম বৈঠক। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে অন্য যেকোনো বিদেশি নেতার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বার তার সঙ্গে বৈঠক করছেন ইসরায়েলের এই প্রধানমন্ত্রী, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর এই সফরের অন্যতম আলোচিত দিক হলো, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখনো কার্যকর রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
এদিকে সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং বিচারিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একই সূত্রে এনে দাঁড় করিয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের ফলাফল শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

