বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার অভিযোগ, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা টেলিগ্রাম ব্যবহার করে লোক নিয়োগ ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুরভের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রেপ্তারি উদ্যোগ শুরু করেছে মস্কো।
রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি জানিয়েছে, দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।
রাশিয়ায় জন্ম হলেও বহু বছর ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন পাভেল দুরভ। বর্তমানে তার ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট রয়েছে। বিদেশে বসেই তিনি টেলিগ্রামসহ একাধিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে রাশিয়ার ভেতরে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম এখনো টেলিগ্রাম।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সরকার ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করার পর থেকেই টেলিগ্রাম এবং পাভেল দুরভের সঙ্গে দেশটির সরকারের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। অতীতেও মস্কো টেলিগ্রামে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।
এছাড়া একসময় টেলিগ্রাম বন্ধ করে ব্যবহারকারীদের সরকারি নিয়ন্ত্রিত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ ব্যবহারে উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে টেলিগ্রামের জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ার কারণে সেই প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি।
তবে রাশিয়া যে ধরনের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি নোটিশ জারি করেছে, সেটি অন্যান্য দেশ বা আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা, সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিমালা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদক্ষেপ শুধু একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নয়; বরং তথ্যপ্রযুক্তি, অনলাইন গোপনীয়তা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধেরই নতুন অধ্যায়।

