যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে গেলে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই পরিস্থিতি শুধু চলমান অভিযান নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কৌশলগত অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই ধরনের মূল্যায়ন তুলে ধরেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ। তাদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে শুধু উন্নত অস্ত্র থাকা যথেষ্ট নয়; সেই অস্ত্রের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দ্রুত পুনরায় উৎপাদনের সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চললে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার হয়। উৎপাদনের গতি যদি ব্যবহার হারের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারে, তাহলে সামরিক অভিযানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং সেখানে মোতায়েন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে কেবল আক্রমণাত্মক অভিযান নয়, প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাও অস্ত্রের মজুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
তাদের মতে, সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে অস্ত্র ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে উৎপাদন বাড়ানো, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আধুনিক যুদ্ধের ফলাফল শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশলের ওপর নির্ভর করে না; বরং অস্ত্র উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল, শিল্প সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা।
এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার সতর্কবার্তা ওয়াশিংটনের জন্য শুধু সামরিক নয়, কৌশলগত ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক বিকল্পগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হতে পারে।

