যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থে নিজেদের ভূখণ্ড বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া (সা.) সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি।
শনিবার (১ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি ক্রমাগত বিস্তৃত করতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তার দাবি, অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য আরও শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ হিসেবেই ওয়াশিংটন এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি করতেও পিছপা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারেও তা কাজে লাগানো হচ্ছে।
তার ভাষ্য, ইরান, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের কৌশল বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমের ব্যয়ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বার্তার শেষাংশে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যে দেশ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার অংশ বা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে, সে দেশ যুদ্ধের আগুনে পুড়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ ও মন্তব্যগুলো ইরানের সরকারি অবস্থান ও দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দেশের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

