চলতি বর্ষা মৌসুমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার কারণে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আসাম ও কেরালায় প্রাণহানি এবং দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। সূত্র: দ্য হিন্দু ও রয়টার্স
ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দু ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে চলতি মৌসুমে বৃষ্টি ও বন্যাজনিত ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে কেরালায় ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন জানিয়েছেন, এখনো সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে রাজ্যজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) রাজ্যের ১০টি জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা কমলা সংকেতে উন্নীত করেছে।
রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি সোমবার সকালেও কেরালার গুরুত্বপূর্ণ শহর কোচিসহ বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত ছিল।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৩১৬টি ত্রাণশিবির চালু রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ হাজার ১৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
ভারী বর্ষণের কারণে কেরালার অধিকাংশ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রাজ্য পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত করেছে সরকার।
সোমবার ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ কেরালার জন্য বৃষ্টির সতর্কতা হলুদ থেকে কমলা সংকেতে উন্নীত করে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে।
তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, ত্রিশূর ও পালাক্কাড জেলা ছাড়া রাজ্যের বাকি সব জেলাকে কমলা সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে।
রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, সোমবারও কিছু এলাকায় তীব্র বাতাসের সঙ্গে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
অন্যদিকে দ্য হিন্দুর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার আসামের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
তবে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় এখনো বন্যার প্রভাব রয়ে গেছে। এসব এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ বলে জানানো হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
রোববার আসামের শিবসাগর জেলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে বৃষ্টিপাত ও বন্যাজনিত ঘটনায় রাজ্যটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

