ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করলে প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া একতরফাভাবে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের অবস্থান স্পষ্ট।
লিন জিয়ান বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। উত্তেজনা না বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দ্রুত সংলাপ ও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন নিষেধাজ্ঞার কাঠামো ঘোষণা করেন। এতে হংকং ও চীনের মূল ভূখণ্ডের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও চীনের বড় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়নি।
ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম বড় ক্রেতা চীন। দেশটির বাজারে ইরানি অপরিশোধিত তেলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতি সামনে আসছে এমন সময়ে, যখন আগামী মাসে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ওই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে বাণিজ্য সংঘাত কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক বছরের যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় দুই নেতার আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো সাধারণত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকে। তবে দেশটির ছোট বেসরকারি শোধনাগারগুলোর একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ইরান থেকে তেল কিনে তা প্রক্রিয়াজাত করে আসছে।
চলতি বছরের শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীন বরাবরই নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিদেশি নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে।
বিদেশি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় চীন নিজস্ব নিষেধাজ্ঞাবিরোধী আইনি কাঠামোও তৈরি করেছে। এর আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহব্যবস্থার ওপর বিদেশি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহযোগিতা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

