ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছে তেহরান। সূত্র: এএফপি
তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরান।
সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি সামরিক হামলা বন্ধ রেখে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সোমবার থেকেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অবসান ঘটানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আমরা এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় অংশগ্রহণ করছি না। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।”
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত পথ ব্যবহার করেই কেবল হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি আগে থেকে অনুমতি নেওয়া এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করাও বাধ্যতামূলক বলে দাবি করেছে দেশটি।
ইসমাইল বাঘাই ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, নতুন একটি নৌপথ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোই এসব আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, আঞ্চলিক ও বাইরের সব পক্ষ ইরানের এই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের গুরুত্ব অনুধাবন করবে এবং তারাও গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করবে।”
ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বাঘাই বলেন, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ চালিয়ে যাবে, ততদিন হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া পরস্পরবিরোধী বক্তব্য গত পাঁচ মাস ধরে চলমান এই সংঘাতের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন পরপরই ট্রাম্প আলোচনার বিষয়ে নতুন দাবি করেন, আর তার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

