Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, আগস্ট 8, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি
    আন্তর্জাতিক

    যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি

    নিজস্ব প্রতিবেদকআগস্ট 7, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনা যখন নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক সেই সময় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তিন দেশ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ নিজেদের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    এই বাস্তবতায় সৌদি আরব শুধু একটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী করার কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    এক দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে সৌদি

    দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক সহযোগিতা, অস্ত্র সরবরাহ এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

    এই বাস্তবতায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতিতে বৈচিত্র্য আনার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে তার জায়গা দখল করতে চাইছে না। বরং এমন একটি নিরাপত্তা সক্ষমতা তৈরি করতে চাইছে, যাতে প্রয়োজনের সময় ওয়াশিংটন সহায়তা না করলে বা করতে না চাইলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।

    তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের পর সৌদি আরব একটি মাত্র নিরাপত্তা ছাতার পরিবর্তে একাধিক নিরাপত্তা স্তর তৈরি করতে চাইছে।

    এই দৃষ্টিকোণ থেকে মক্কা চুক্তিকে শুধু একটি সামরিক সমঝোতা হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এটি সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনেরও একটি ইঙ্গিত হতে পারে।

    হামলা হলে তিন দেশ একসঙ্গে প্রতিরোধ করবে

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

    এর মাধ্যমে সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    এ ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সৌদি আরবের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চলকে ঘিরে। দেশটির ওপর হামলা হলে শুধু সৌদি আরব নয়, গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

    অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের অবস্থানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান সরাসরি ইরানের প্রতিবেশী। তুরস্কেরও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান তাদের ইরানের ওপর ভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব প্রয়োগের সুযোগ দেয়।

    বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌদি পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ উমর করিম এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, তিন দেশের এই সমন্বয়ের পেছনে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নতুন কৌশল মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    যুদ্ধই কি চুক্তিকে ত্বরান্বিত করল?

    তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা অবশ্য আজকের নয়। সৌদি আরব ও পাকিস্তান ২০২৫ সালেই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি চুক্তি ঘোষণা করেছিল।

    তবে বর্তমান আঞ্চলিক যুদ্ধ সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

    সৌদি সামরিক ও সরকারি মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিন দেশের মধ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে দিয়েছে।

    অর্থাৎ, যুদ্ধ না হলে হয়তো চুক্তিটি আরও পরে বাস্তবায়িত হতো। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, হুথি হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তিন দেশকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও তুরস্কের সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। একসময় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নত হয়েছে।

    ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সৌদি আরবে যান।

    ফলে একই দিনে তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের উপস্থিতি চুক্তিটির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এর আগে বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হলেও এর গুরুত্ব কেবল বর্তমান সংকট বা স্বল্পমেয়াদি পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    এ বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিন দেশের সহযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    পাকিস্তানের জন্যও বড় সুযোগ

    এই চুক্তি শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা প্রয়োজন মেটাবে না; পাকিস্তানের জন্যও এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সামরিক সম্পর্কের আলাদা কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

    সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পাকিস্তানকে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

    এর পাশাপাশি সৌদি বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনাও পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিয়োগের চাপের মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথও আরও প্রশস্ত করতে পারে।

    অন্যদিকে সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

    তুরস্কের লাভ কোথায়?

    তুরস্কও এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে।

    আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে তুরস্ক সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় হয়েছে। গাজা যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনাতেও দেশটি ভূমিকা রেখেছে।

    একই সঙ্গে তুরস্ক নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। সামরিক প্রযুক্তি, অস্ত্র উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতা বাড়ছে।

    সৌদি আরবের মতো একটি ধনী দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তুরস্কের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

    অন্যদিকে সৌদি আরব তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিজের প্রভাব বাড়াতে পারবে।

    হুথি হামলাও বাড়াচ্ছে সৌদির উদ্বেগ

    নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আরেকটি বড় কারণ হলো ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘাত।

    সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি প্রায় চার বছর ধরে মোটামুটি কার্যকর ছিল, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা ভেঙে পড়েছে।

    হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণার পাশাপাশি সৌদি তেলবাহী জাহাজেও হামলার চেষ্টা করেছে।

    ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিদের এই কর্মকাণ্ড সৌদি আরবের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

    এর প্রভাব শুধু সৌদি ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও হুমকির মুখে পড়ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

    হরমুজ প্রণালির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে

    মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

    এর পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে।

    অর্থাৎ সৌদি আরবকে একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। একটি হলো হরমুজ প্রণালি, অন্যটি লোহিত সাগর।

    এই পরিস্থিতিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশকে নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা রিয়াদের কাছে যৌক্তিক মনে হতে পারে।

    এক দিনে ৫৮ সরকারি সেনা নিহত

    আঞ্চলিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সংঘাতের মাত্রা থেকেও।

    ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশযান হামলায় ইয়েমেন সরকারের অন্তত ৫৮ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

    বছরের পর বছর ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে একটি সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

    এই পুরোনো সংঘাত আবার তীব্র হয়ে ওঠায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে।

    তিন দেশের ঘনিষ্ঠতা কি নতুন আঞ্চলিক জোটের সূচনা?

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিনটি দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেও প্রতিটি দেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক স্বার্থ রয়েছে।

    তাই এই চুক্তিকে সরাসরি একটি নতুন সামরিক জোট হিসেবে দেখার আগে এর বাস্তব প্রয়োগের দিকটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—তিন দেশই নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

    সৌদি আরব চাইছে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একক নির্ভরতা কমাতে। তুরস্ক চাইছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নিজের প্রভাব আরও বাড়াতে। আর পাকিস্তান চাইছে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে।

    এই তিনটি স্বার্থ একই জায়গায় এসে মিলে যাওয়াই নতুন চুক্তির সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

    বদলে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা হিসাব

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে বড় তাৎপর্য সম্ভবত এর সময়ের মধ্যে নিহিত। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, নৌপথে হামলা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার মধ্যেই এই চুক্তি হয়েছে।

    সৌদি আরবের জন্য এটি শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা নয়। বরং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার কাঠামোতে আরও স্বাধীন ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তুতিও হতে পারে।

    তুরস্ক ও পাকিস্তানের জন্যও এটি নিজেদের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ানোর সুযোগ।

    তবে চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা কতটা গভীর হয় এবং কোনো সদস্য দেশ বাস্তবে আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর।

    তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে মক্কা চুক্তি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সৌদি আরব আগের মতো শুধু একটি শক্তির ওপর নির্ভর করতে চাইছে না। বরং একাধিক অংশীদারকে নিয়ে নিজের জন্য একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে চাইছে।

    আর চলমান যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এই নতুন সমীকরণ শুধু সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যেও পড়তে পারে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    কেন লাতিন আমেরিকা ‘ইসরায়েলের উগ্রপন্থীদের’ আঁতুড়ঘরে পরিণত হচ্ছে?

    আগস্ট 7, 2026
    আন্তর্জাতিক

    সক্ষমতা যাচাই করতে ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া

    আগস্ট 7, 2026
    মতামত

    ইসরায়েলের গণহত্যা গাজার তরুণ চিকিৎসকদের একটি প্রজন্মকে স্থবির করে দিয়েছে

    আগস্ট 7, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.