মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক থেকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ছাড়া অন্য একটি বিমানে করে গোপনে চলে গেছেন—এমন খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নানা মিম ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট চুপিসারে একটি সামরিক বিমানে করে দেশটি ছেড়ে যান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অথচ হোয়াইট হাউস তখনও দাবি করছিল, তিনি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ করেই ভ্রমণ করছেন। সোমবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির কারণে এ ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
৮০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট প্রথমে ক্যামেরার সামনে আঙ্কারায় পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠেন।
পরে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, খাবার ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিমানে তোলার কাজে সাধারণত ব্যবহৃত একটি ‘বিমানবন্দর খাবার সরবরাহের গাড়ি’র মাধ্যমে ট্রাম্পকে গোপনে একটি ছোট বিমানে স্থানান্তর করা হয়।
সাংবাদিক ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মীকে বহনকারী মূল ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’টি তখন বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ‘প্রতারণামূলক বিমান’ হিসেবে কাজ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু রয়েছে, যারা তার ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছে এবং আমরা এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করছি।’
একই সঙ্গে কাতারের উপহার হিসেবে দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর পক্ষেও অবস্থান নেন ওই মুখপাত্র। যদিও ওই বিমানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই বলে জানা গেছে।
‘নিউইয়র্ক টাইমস’ও ট্রাম্পের এই জটিল নিরাপত্তা কৌশলের খবর প্রকাশ করেছে।
খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যঙ্গাত্মক মিমের বিষয় হয়ে ওঠে। ট্রাম্পকে কখনো খাবার পরিবহনের গাড়ির ভেতরে গাদাগাদি করে আবার কখনো কাপড় রাখার ঝুড়ির মধ্যে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন কল্পিত ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেন অনেকে।
‘মিডাসটাচ’-এর প্রধান সম্পাদক রন ফিলিপকোভস্কি একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, রানওয়েতে একটি ধাতব গাড়ির ভেতরে ট্রাম্প শুয়ে আছেন। তার পাশে রয়েছে ম্যাকডোনাল্ডসের ভাজা আলুর প্যাকেট ও ডায়েট কোকের বোতল।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘বিশেষ প্রতিবেদন। বিমান পরিবর্তনের সময় খাবার সরবরাহের গাড়ির ভেতরে লুকিয়ে থাকা ট্রাম্পের দৃশ্য মিদাস সংগ্রহ করেছে।’
অন্য এক ব্যবহারকারী এমন একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়, একজন বিমানবালা যাত্রীতে ঠাসা একটি বিমানের করিডর দিয়ে খাবার পরিবেশনের একটি গাড়ি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই গাড়ির ভেতরে ট্রাম্প বসে আছেন।
অন্যদিকে, নিজেকে ‘অ্যাসোসিয়েটেড ফ্রেস’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক অ্যাকাউন্ট এমন একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ম্যাকডোনাল্ডসের গাড়ির ভেতর থেকে মাথা বের করতে দেখা যায়।
এটি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় পেনসিলভানিয়ার একটি ম্যাকডোনাল্ডসের ড্রাইভ-থ্রুতে ট্রাম্পের কাজ করার ভাইরাল ছবির স্পষ্ট ইঙ্গিত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আরেকটি ব্যঙ্গচিত্রে দেখা যায়, ট্রাম্পকে কাপড় রাখার একটি গাড়িতে করে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তোয়ালের স্তূপের মধ্য থেকে তার মাথা বেরিয়ে আছে।
আরেকটি বামপন্থি অ্যাকাউন্ট ‘জস’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য ব্যবহার করে ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করে। সেখানে চলচ্চিত্রটির বিখ্যাত সংলাপের অনুকরণে লেখা হয়, ‘আমাদের আরও বড় খাবার পরিবহনের গাড়ি লাগবে!’
আরেকটি ব্যঙ্গচিত্রে এমন একটি খাবার সরবরাহকারী গাড়ি দেখানো হয়, যেটিকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর আদলে সাজানো হয়েছে এবং তাতে প্রেসিডেন্টের প্রতীক লাগানো রয়েছে। ছবিটির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘আমেরিকার ভীতু-প্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক থেকে খাবার পরিবহনের গাড়ি একে করে চুপিসারে পালিয়ে গেলেন।’
আরেকটি এক্স অ্যাকাউন্ট এইচবিওর ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ শোর একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে। সেখানে রাজা এগন টারগারিয়েনকে ‘আমি বেঁচে আছি!’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়।
এর সঙ্গে ব্যঙ্গ করে লেখা হয়, ‘ট্রাম্প দেখছেন, তার অপছন্দের সব সাংবাদিককে নিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।’


