সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে পরিচালিত সিরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির অবশিষ্টাংশ তদন্তে জাতিসংঘকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে দেশটির বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছে দামেস্ক। সূত্র: আল-জাজিরা
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সিরিয়ার সরকার জানায়, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যেই সংস্থাটি জানিয়েছে, দামেস্কের একটি গোপন স্থানে কয়েক টন পরমাণু উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানান, গত মাসে সিরিয়া নিজ উদ্যোগেই ওই স্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে অবহিত করেছিল। সেখানে পাওয়া উপাদান বিপজ্জনক নয় এবং আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থার আওতায় তা সিরিয়ার হেফাজতে রাখা হবে বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, সংস্থাটির পরিদর্শকেরা দুটি স্থানে গেছেন। এর একটি দেইর আজ-জোরে এবং অন্যটি সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া পরমাণু উপাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থান।
দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রোসি সিরিয়ার বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই স্থানে কয়েক টন পরমাণু উপাদান রয়েছে, যা অপব্যবহার করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় এসব উপাদান সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাইবানি বলেন, ‘১৭ জুলাই আমরা সংস্থাটিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি। এতে সাবেক সরকারের রেখে যাওয়া কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে একটি অঘোষিত স্থানে পরমাণু উপাদান থাকার বিষয়টি আমরা স্বেচ্ছায় জানিয়েছি।’
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ দেশটির কয়েক দশকের পরমাণু কর্মকাণ্ডের উত্তরাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।
তবে সিরিয়ায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির কর্মসূচির জন্য ব্যবহারযোগ্য কার্যকর মজুত রয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। এর আগে ২০০৭ সালে দেইর আজ-জোরে সন্দেহভাজন একটি সিরীয় পরমাণু চুল্লিতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছিল।

