রাশিয়া ও রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। রুশ কর্মকর্তারা শনিবার (২২ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন।
রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল অনলাইন পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোনের একটি গুদাম এবং একটি শিল্পকারখানা। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্মুখসারির বাইরে অর্থনৈতিক ও শিল্প অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়ছে। দুই পক্ষই এখন ড্রোন ব্যবহার করে একে অপরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার মধ্য ইউক্রেনের একটি বিপণিকেন্দ্রে রাশিয়ার কয়েকটি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হন। ওই হামলার পর ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শনিবার ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব হামলা রাশিয়ার পালটা জবাবের জন্য ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছে। তার এই মন্তব্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনা ও অর্থায়নের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করতেই দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। কিয়েভের অবস্থান হলো, রাশিয়ার যুদ্ধক্ষমতার ভিত্তিকে দুর্বল করার জন্য এসব হামলা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে যুদ্ধের সামরিক দিকেও ইউক্রেনের জন্য সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে নতুন ফরাসি সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ফলে একদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পালটা ড্রোন হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনা দেখাচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাব এখন আর শুধু সম্মুখসারির এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই; দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামোও ক্রমেই সংঘাতের বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

