নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার খবরের মধ্যেই স্বস্তির তথ্য জানিয়েছে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস। নিখোঁজদের মধ্যে আটশর বেশি বিদেশি নাগরিক থাকলেও নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকেরা সবাই নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে দূতাবাস।
দূতাবাসের তথ্যমতে, রাজধানী কাঠমান্ডু, পোখারা ও নাগরকোটসহ প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। এই বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কাউন্সেলর। তিনি জানান, বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনাটি মূলত কৈলাস ও মানস সরোবরের পথে ঘটেছে, যেখানে সাধারণত বাংলাদেশি পর্যটকেরা যাতায়াত করেন না। তাঁর ভাষ্যে, নেপালের কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হতাহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই।
তবে দুর্যোগের কারণে সাময়িক দুর্ভোগে পড়েছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক। কাউন্সেলর জানান, পোখারা থেকে কাঠমান্ডু ফেরার পথে মহাসড়ক বন্ধ থাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন। ওই সময় হাজার হাজার যাত্রীর সঙ্গে তাঁরাও আটকে ছিলেন, পরে সড়ক খুলে দেওয়া হলে গতকাল সকালেই সবাই নিরাপদে কাঠমান্ডু পৌঁছান। বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবেই ওই সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি মূলত ঘটেছে ত্রিশূলী নদীর উজানে। কাউন্সেলরের ব্যাখ্যায়, ওই এলাকা থেকে নেমে আসা বিপুল পানি প্রায় চল্লিশ মাইল পথ পেরিয়ে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে মেশে, যার ফলে সেখানকার একটি মহাসড়ক উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নেপাল সরকারের তথ্যে জানা গেছে। তবে কাঠমান্ডু-পোখারা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ত্রিশূলী নদী এই মহাসড়কের পাশ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ায় এবং প্রতিবেশী রাজ্য বিহারেও সতর্কতা জারি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, যার কারণে সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে সড়কটি স্বাভাবিকভাবে যান চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে।
নেপালে ভ্রমণরত বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেন কাউন্সেলর। তিনি জানান, কাঠমান্ডুতে সবকিছু এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক এবং পোখারা-কাঠমান্ডু যাতায়াতে যে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছিল, তাও পুরোপুরি কেটে গেছে। প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের আগে থেকে ঠিক করা ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো ট্রাভেল অ্যালার্ট বা ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে কাউন্সেলর জানান, শুধু বাংলাদেশ নয়, এখন পর্যন্ত কোনো দেশই এ ধরনের সতর্কতা জারি করেনি।

