নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে পৌঁছেছে। এখনো প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে টানা তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ আরও এগিয়ে গেলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীসংলগ্ন এলাকায় প্রবল বন্যার ঢল ও ভূমিধসের পর এই বিপর্যয় শুরু হয়। পানির স্রোত ও পাহাড়ধসে অসংখ্য বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বন্যার পর নেপালে অবস্থানরত বহু বিদেশি নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দেশটিতে থাকা ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বন্যার পর প্রায় ৩০০ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ হিসাবে এখনো ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মোট ৮২৬ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও রয়েছেন।
নতুন করে বন্যার আশঙ্কা
ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই নেপালের জন্য নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে প্রাকৃতিকভাবে একটি বাঁধ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সেখানে বড় একটি জলাধারের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই জলাধারে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। পানি আরও বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ পানি নেপালের দিকে নেমে গিয়ে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে একদিকে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য নতুন বন্যা মোকাবিলায়ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

