হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে টানা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবারও দুই প্রধান মানদণ্ডের তেলের দাম কমেছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৫ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ২২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৩১ ডলার।
সপ্তাহের হিসাবে দরপতনের মাত্রা আরও স্পষ্ট। এ পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
আগের দিন কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পর শুক্রবার আবারও তেলের বাজারে দরপতন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন মূলত হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আলোচনার দিকে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে আলোচনা
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইরান। তবে প্রণালিটি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে।
ইরানের অন্যতম দাবি হলো দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, চলমান সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।
তেলের বাজারে স্বস্তির প্রত্যাশা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবার স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে। সেই প্রত্যাশাই বর্তমানে তেলের দামে চাপ তৈরি করছে।
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার ফল কী হয় এবং হরমুজ প্রণালি আদৌ কবে খুলবে, তার ওপরই আগামী দিনে তেলের বাজারের গতিপথ অনেকটা নির্ভর করবে।

