ভারতে হঠাৎ চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টির বাজারে। সামনে উৎসবের মৌসুম, এর মধ্যেই কাঁচামালের বাড়তি দামে নতুন করে মিষ্টির দাম বাড়ানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, আখ থেকে ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর কারণেই কি দেশে চিনির সরবরাহ কমে দাম বেড়ে গেছে?
পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ‘জলভরা সন্দেশ’-এর উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত সূর্য কুমার মোদকের বর্তমান কর্ণধার শৈবাল মোদক বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় তারা মিষ্টির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আবার চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি মিষ্টিতে তাদের লাভের হার প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে।
তার প্রশ্ন, বছরে কতবার মিষ্টির দাম বাড়ানো সম্ভব?
রাখিবন্ধন উৎসবের পর আবারও দাম বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক মাসের ব্যবধানে বারবার মূল্য বাড়াতে হলে মিষ্টির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টির দাম বাড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বর্ধমানের শক্তিগড়ের ল্যাংচা বিক্রেতারা দাম বাড়িয়েছেন। শান্তিপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও প্রতি কেজি নিখুঁতির দাম প্রায় ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন।
সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে উৎসবের মৌসুম। জন্মাষ্টমী, বিশ্বকর্মা পূজা ও গণেশ চতুর্থীর পর অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এ সময় মিষ্টির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের অনেক মিষ্টির দোকানের বছরের বড় অংশের আয় আসে এই উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রি থেকে।
কিন্তু উৎসবের ঠিক আগে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে মিষ্টির মূল্য বাড়িয়েছিলেন। এখন চিনির কারণে আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতে হলে ব্যবসায় আরও চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পেট্রোলে ইথানল, বাড়ছে চিনির দাম
চিনির দাম বাড়ার পেছনে ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। আখ থেকে উৎপাদিত ইথানল বর্তমানে ভারতে পেট্রোলের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে। ফলে অনেকের প্রশ্ন, জ্বালানি তৈরিতে আখ ব্যবহারের কারণে কি চিনির উৎপাদন কমে যাচ্ছে?
হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বরের এক বাসিন্দার অভিযোগ, পেট্রোলে ইথানল মেশানো শুরু হলেও জ্বালানির দাম কমেনি। বরং তার অভিজ্ঞতায় গাড়ির মাইলেজ কমেছে। অন্যদিকে চিনির দামও বেড়েছে। ফলে সরকারের এই নীতিতে সাধারণ মানুষ আসলে কতটা লাভবান হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তিনি।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু আগস্ট মাসেই ভারতে চিনির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
২৭ আগস্টের বাজারদর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানসহ কয়েকটি জেলায় প্রতি কেজি চিনির দাম ৭০ রুপিতে পৌঁছেছে। এসব এলাকাই মিষ্টি উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
গত ২৪ আগস্ট চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে তিন দিন পরও বাজারদরে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ভারত সরকারের ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনির গড় দাম ছিল ৫৫ রুপি ৭০ পয়সা। এক মাস আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৪৮ রুপি ১৮ পয়সা। আর ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৬ রুপি ৩০ পয়সা।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে চিনির দামে এমন দ্রুত বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।
আখের উৎপাদন কমেনি, তবু কেন বাড়ল দাম?
অনেকের ধারণা, এল নিনোর প্রভাবে দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাত আখ ও চিনির উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। এর ফলেই সরবরাহ কমে বাজারে দাম বেড়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় আখের চাষের পরিমাণ প্রায় একই রয়েছে। এমনকি গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় এবার প্রায় চার লাখ হেক্টর বেশি জমিতে আখ চাষ হয়েছে।
চিনির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে চিনি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কতটা চিনি মজুত রাখতে পারবেন, তারও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমবে।
ইথানল কর্মসূচির প্রভাব কতটা?
অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরেই ভারতের অবস্থান। কিন্তু দেশটির ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয়।
আমদানি নির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানো এবং দূষণ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালে ভারত সরকার পেট্রোলে ইথানল মেশানোর হার ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণের কথা থাকলেও ভারত সরকার ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য অর্জন করে।
ভারতের অধিকাংশ চিনি কল বেসরকারি ও সমবায় মালিকানাধীন হলেও শিল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কৃষকদের কাছ থেকে আখ কেনার ক্ষেত্রে কত ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য দিতে হবে, তা কেন্দ্র সরকার নির্ধারণ করে।
একই সঙ্গে প্রতিটি চিনি কল কতটা চিনি বিক্রি করতে পারবে এবং চিনি রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেসব বিষয়ও সরকারি নীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
দেশে ইথানলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাও সরকার। ফলে ইথানলের দামও পরোক্ষভাবে সরকারি নীতির প্রভাবের মধ্যে থাকে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ চিনি বর্ষে প্রায় ৩০ লাখ টন আখ ইথানল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি দেশের মোট চিনি উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
আখের সরাসরি রস ছাড়াও চিনি উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া সিরাপ এবং এ-হেভি, বি-হেভি ও সি-হেভি মোলাসিস থেকেও ইথানল তৈরি করা যায়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে উৎপাদিত মোট ইথানলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আখভিত্তিক কাঁচামাল থেকে এসেছে।
তবে একটি বড় চিনি কলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকার সব সময় চিনি উৎপাদনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তার ভাষ্য, শুধু ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি বা আখ সরিয়ে নেওয়ার কারণেই বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হলেও বাস্তবতা আরও জটিল।
তিনি বলেন, চিনি উৎপাদনের প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল অনেক বেশি। কিন্তু আখ ও চিনি উৎপাদনের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার মতো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি বা পদ্ধতি এখনো ভারতের হাতে নেই।
তার মতে, ভারতের মতো বিশাল চিনির বাজারে শুধু ইথানল উৎপাদনের জন্য কিছু কাঁচামাল ব্যবহারের কারণে সরাসরি চিনির ঘাটতি তৈরি হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
উৎপাদন পূর্বাভাসের চেয়ে কম
চিনি উৎপাদনে ব্রাজিলের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে আখের রস থেকে চিনি উৎপাদনকারী মোট ৭০৩টি চিনি কল রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৫টি বেসরকারি, ৩২৫টি সমবায় এবং ৪৩টি সরকারি মালিকানাধীন।
ভারতে চিনি উৎপাদনের বার্ষিক মৌসুম সাধারণত অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে পরের বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে।
চিনি শিল্পের সংগঠন ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ লিমিটেডের সহসভাপতি কেতন প্যাটেল জানান, ২০২৫-২৬ চিনি বর্ষে দেশে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টন।
তার মতে, উৎপাদন কমার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল আখের ফলনে। একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশে উচ্চ ফলনশীল সিও-০২৩৮ জাতের আখে গেরুয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
এই দুই কারণে আখের উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি প্রতি ১০০ কেজি আখ থেকে পাওয়া চিনির পরিমাণ, অর্থাৎ সুগার রিকভারি রেটও ১২ কেজির নিচে নেমে গেছে। ফলে পূর্বাভাসের তুলনায় কম চিনি উৎপাদিত হয়েছে।
কেতন প্যাটেল জানান, ভারতে বছরে সাধারণত ২ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ টন চিনি ব্যবহার হয়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চিনি বর্ষের শেষে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন উদ্বৃত্ত মজুত থাকার কথা।
কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে উদ্বৃত্ত মজুত ছিল মাত্র ৫০ থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টন। ফলে নতুন চিনি বর্ষ শুরু হয়েছিল তুলনামূলক কম প্রাথমিক মজুত নিয়ে।
এরপর উৎপাদনও প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেতন প্যাটেলের মতে, শুধু দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে চিনির দাম বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা যাবে না।
তার ধারণা, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি কিনছেন। বাজারে মজুত তুলনামূলক কম, সামনে উৎসবের মৌসুম এবং বৃষ্টিপাত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণের সঙ্গে বাড়তি চাহিদা যুক্ত হয়ে চিনির দাম বেড়ে গেছে।
দেশে কি চিনির ঘাটতি রয়েছে?
ভারতের বেসরকারি চিনি কলগুলোর সংগঠন ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বস্ত্রশিল্পের পর আখভিত্তিক শিল্পই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিনির্ভর শিল্প।
দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ লাখ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়। এর মাধ্যমে বছরে গড়ে প্রায় ৪৫ কোটি টন আখ উৎপাদিত হয় এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত।
চিনির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে বিবিসি কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। তবে ফোন ও বার্তার জবাবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র সরকার দাবি করেছিল, দেশে চিনির কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই।
সরকারের ভাষ্য, বিভিন্ন চিনি কলের গেটে চিনির যে মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা বর্তমান চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ব্যবসায়ী, ডিলার ও মধ্যস্বত্বভোগীর বিরুদ্ধে মজুতদারি, জল্পনামূলক লেনদেন এবং প্রকৃতপক্ষে চিনি সরবরাহ না করেও কাগজে-কলমে ব্যবসা দেখানোর অভিযোগ করা হয়।
সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড বাজারে কৃত্রিম সংকটের ধারণা তৈরি করেছে। এর ফলে চিনি কলের গেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে কেন্দ্র সরকার আশ্বস্ত করেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি মজুত রয়েছে এবং ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
কবে কমতে পারে চিনির দাম?
কেতন প্যাটেলের মতে, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর সাধারণত চিনি উৎপাদনের অফ-সিজন। এই সময় নতুন চিনি উৎপাদন হয় না। অথচ একই সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব শুরু হওয়ায় বাজারে চাহিদা বাড়ে। ফলে প্রতিবছরই এই সময়ে চিনির দাম কিছুটা বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, উৎপাদন মৌসুমে চিনির দাম সাধারণত প্রতি কেজি ৩৮ থেকে ৪২ রুপির মধ্যে থাকে। কিন্তু এই দামে অনেক চিনি কলের জন্য কৃষকদের সরকার নির্ধারিত ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য সময়মতো পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে অনেক কৃষক আখের পরিবর্তে এমন ফসলের দিকে ঝুঁকছেন, যেগুলো থেকে তিন বা ছয় মাসের মধ্যেই আয় পাওয়া যায়।
তার মতে, চিনির বাজারদর বাড়লে চিনি কলগুলো তাদের মজুত চিনি বিক্রি করে কৃষকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের সুযোগ পায়।
তিনি আশা করছেন, অক্টোবর থেকে নতুন মৌসুমের চিনি বাজারে আসতে শুরু করলে সরবরাহ বাড়বে। এতে দামের ওপর চাপ কমতে পারে এবং মূল্যহ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে গুজরাতের সুরেন্দ্রনগরের চিনি ব্যবসায়ী ধনরাজ কৈলা মনে করেন, বর্তমানে বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি নেই, আবার অতিরিক্ত মজুতও নেই।
তার ভাষায়, পরিস্থিতি এখন অনেকটা ‘হাতে আসা, সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি’ ধরনের। বাজারে যত চিনি আসছে, তার বড় অংশ দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
এর পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম মজুত, ইথানল উৎপাদনের জন্য প্রায় ৩০ লাখ টন চিনি বা সমপরিমাণ কাঁচামাল ব্যবহারের প্রভাব এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি রপ্তানির বিষয়গুলোও ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন।
ধনরাজ কৈলা সতর্ক করে বলেন, প্রায় দেড়শ কোটি মানুষের দেশে এক বা দুই বছর বড় ধরনের খরা দেখা দিলে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির মতো প্রকল্প ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তার মতে, এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে এবং চিনির দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে বাজারে আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটা শুরু হয়েছে।
তার ভাষ্য, আগে যারা পাঁচ কেজি চিনি কিনতেন, তারা এখন ৫০ কেজি কিনছেন। আর যারা ৫০ কেজি কিনতেন, তারা এখন ১০০ কেজি চিনি কিনতে চাইছেন। এই বাড়তি কেনাকাটার প্রবণতাও বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়িয়ে চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

