যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক শতাব্দী পর দেশটির ধাতব মুদ্রায় কোনো জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি বিশেষ এক ডলারের স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকারি মুদ্রা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার নতুন এই স্মারক মুদ্রা উন্মোচন করা হয়। মুদ্রাটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ধর্মীয় বাক্য “আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখি” লেখা রয়েছে।
মার্কিন মুদ্রা প্রস্তুতকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই বিশেষ মুদ্রা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্য, গর্ব এবং জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
মুদ্রাটি বাজারে আসার পর ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি ওয়েবসাইটে এর মজুদ শেষ হয়ে যায়। ২৫টি মুদ্রার একটি রোল বিক্রি হয়েছে ৬১ ডলারে এবং ১০০টি মুদ্রার একটি প্যাকেটের দাম রাখা হয়েছিল ১৫৪ দশমিক ৫০ ডলার।
এ ছাড়া রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে থাকা সরকারি মুদ্রা বিক্রয়কেন্দ্রের যন্ত্র থেকেও এই মুদ্রা সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
তবে দেখতে সোনালি হলেও মুদ্রাগুলোতে কোনো প্রকৃত স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তৈরি হয়েছে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা দিয়ে। বাকি অংশে রয়েছে দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল।
মার্কিন মুদ্রায় জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে নোটে কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ছাপানো নিষিদ্ধ।
তবে এই নিয়ম মূলত কাগুজে নোটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ধাতব মুদ্রার ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা সরাসরি কার্যকর নয়। এ কারণে বিশেষ পরিস্থিতিতে ধাতব মুদ্রায় জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
এর আগে ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি অর্ধ-ডলারের স্মারক মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সময় তিনিও জীবিত ছিলেন।
এরপর দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে আর কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির মুদ্রায় দেখা যায়নি। ফলে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সংবলিত এই মুদ্রা আবারও ইতিহাসের আলোচনায় এসেছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের একটি নোট চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তার বিভাগ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির ছবি কাগুজে নোটে ব্যবহার করা যায় না। এই নিয়ম পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ব্যতিক্রম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তখন উল্লেখ করেছিলেন, এর আগেও একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। তিনি ১৯২৬ সালের ক্যালভিন কুলিজের স্মারক মুদ্রার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রথম মেয়াদের একটি আইনকে এই মুদ্রা তৈরির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০২০ সালের ওই আইনে বলা হয়েছিল, মুদ্রার পেছনের অংশে জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার করা যাবে না।
তবে আইনে মুদ্রার সামনের অংশের বিষয়ে এমন নিষেধাজ্ঞা নেই। নতুন প্রকাশিত এক ডলারের স্মারক মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সামনের অংশেই রাখা হয়েছে। ফলে এটি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এই মুদ্রা শুধু একটি সংগ্রহযোগ্য বস্তু নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে উঠেছে। একদিকে এটি ট্রাম্প সমর্থকদের কাছে একটি ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অন্যদিকে জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে বিতর্কও তৈরি করেছে।
২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই মুদ্রা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

