যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে—এমন খবর প্রকাশ ও প্রচারকারী ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যেসব ব্যক্তি ও গণমাধ্যম ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার ফুরিয়ে আসছে বলে প্রচার করছে, তারা মূলত রাষ্ট্রদ্রোহী।
ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব সমালোচক তাঁর সাফল্য দেখতে চান না; বরং চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় দেখতে চান। যদিও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জয়ী হবে বলে তিনি বারবার দাবি করে আসছেন।
অন্য একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। চলমান সামরিক অভিযান কিংবা ভবিষ্যতে অন্য কোনো যুদ্ধে ব্যাপক অস্ত্র ব্যবহারের পরও দেশটির হাতে পর্যাপ্ত মাঝারি ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে নজিরবিহীন মাত্রায় অস্ত্র উৎপাদন করছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য দেশটি প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই—এমন প্রতিবেদন ও আলোচনা এর আগেও বারবার নাকচ করেছেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত অন্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি না করে নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র সংরক্ষণ করছে। তবে শিগগিরই মিত্র দেশগুলোর কাছে আবারও অস্ত্র বিক্রি শুরু করা হবে।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে, বাইডেন প্রশাসন তার চেয়েও বেশি অস্ত্র ইউক্রেনকে বিনা মূল্যে দিয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বাইডেনের সময়ে ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রশাসন ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তার অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে কিছুটা দেরিতে হলেও ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং ইরান অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখনই ট্রাম্প এসব মন্তব্য করলেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং দেশটির অস্ত্র উৎপাদনও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

