যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষায় প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাস নিয়ে কয়েকটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকার মধ্যেই সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র: শাফাক নিউজ
শনিবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শুক্রবার ওমান উপসাগরে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের মধ্যে ১৭টি জাহাজ-থেকে-জাহাজ পণ্য স্থানান্তরের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব স্থানান্তরের মাধ্যমে মোট প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাস সরানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে সামরিকভাবে মাইন অপসারণের অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, কৌশলগত এই জলপথে ২০০টির বেশি সন্দেহজনক মাইনসদৃশ বস্তু সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টিকে নিশ্চিত মাইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাহাজ চলাচলের পথটি এখন ইরানের সমুদ্র মাইন থেকে মুক্ত। এর ফলে ওই পথে জাহাজ চলাচল বাড়ছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এখনো কম।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ এর আগের ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩টি পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুলাইয়ের পর সবচেয়ে তীব্র সামরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ইরান বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক সুরক্ষায় বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস নিয়ে ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

