সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র- ইরান আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত মাসে তেহরান সফর করেন এবং এরপর ওমান ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সেখানে যান। তাঁদের প্রত্যেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে জুনে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি রক্ষা করতে চেয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান তিনজন মধ্যস্থতাকারীকেই একটি সুসংহত বার্তা দিয়েছে: ওয়াশিংটনের উচিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ফিরে আসা এবং নতুন করে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে আঞ্চলিক সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করা।
তবে, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি অস্থায়ী নতুন নৌপথ খোলার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছালেও, ওয়াশিংটন ইসলামাবাদ চুক্তিতে ফিরে আসার তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং লারাক দ্বীপে রকেট লঞ্চারে হামলা চালিয়ে সামরিক উত্তেজনা পুনরায় শুরু করেছে।
ইরান জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর জবাব দিয়েছে, যা সংঘাতের চক্রকে আরও জোরদার করেছে এবং এই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির চেয়ে বলপ্রয়োগেই বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আট বছর আগে ট্রাম্প ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তিটি বাতিল করে দেন, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অন্যতম সেরা কূটনৈতিক কীর্তি হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ইসলামাবাদ স্মারকলিপিটি হলো ট্রাম্পের নিজস্ব কূটনৈতিক কীর্তি।
ওয়াশিংটন যদি এখন তার নিজের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি থেকে সরে আসতে প্রস্তুত থাকে, তবে তা আরও ব্যাপক একটি বার্তা দেয়: যুক্তরাষ্ট্র এখন আর কেবল পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর উত্তরাধিকারই পরিত্যাগ করছে না, বরং নিজেদের উত্তরাধিকারকেও পরিত্যাগ করছে। এটি একটি জোরালো ইঙ্গিত যে, ইরান বিষয়ে ওয়াশিংটনের কৌশল আর শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।
পরস্পরবিরোধী গণনা
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরু করার সিদ্ধান্তটি তাই একটি চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক অর্থনৈতিক আক্রমণ, যার লক্ষ্য হলো আর্থিক জবরদস্তির মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করা, যা কূটনীতি, নিষেধাজ্ঞা, গোপন অভিযান এবং সামরিক শক্তি—সবই করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমান অচলাবস্থা কেবল স্বার্থের সংঘাতের কারণেই নয়, বরং পরস্পরবিরোধী কৌশলগত হিসাব-নিকাশের কারণেও টিকে আছে।
ওয়াশিংটন সম্ভবত মনে করে যে, বেশ কয়েক দফা সামরিক সংঘাত এবং ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক ক্ষতিসাধনের পর, মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যাপক আর্থিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে।
এই ধারণাটি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে, যিনি ঘোষণা করেছেন : “আমরা এই শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে দেব। এখন আমাদের মিত্রদের এবং বাকি বিশ্বের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। আপনারা হয় আমাদের সাথে আছেন, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।”
তেহরানের কৌশলগত মূল্যায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। সম্প্রতি একজন ইরানি কৌশলবিদের কাছ থেকে শোনা একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, ইরানের নেতৃত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতকে একটি “অস্তিত্বের যুদ্ধ” হিসেবে দেখছে, যা কেবল ইরানের ভবিষ্যৎই নয়, বরং আঞ্চলিক ব্যবস্থাকেও রূপ দেবে।
এই মূল্যায়নে, ইরান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিকে দুর্বল করেছে, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ হ্রাস করেছে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে এবং ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উভয়ের ওপর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বোঝা চাপিয়েছে।
ফলস্বরূপ, তেহরান আরেকটি অস্থায়ী ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বর্তমান অর্থনৈতিক আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে সামরিকভাবে পরিস্থিতি আরও গুরুতর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে।
ওয়াশিংটন সম্ভবত তেহরানের কৌশলগত চিন্তাভাবনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটিকে অবমূল্যায়ন করছে। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অনেকেই পারস্যদের ভাষায় যাকে বলা হয় “একবার মৃত্যু, একবার আর্তনাদ”—সেই মানসিকতায় পৌঁছেছেন বলে মনে হচ্ছে, যা ইংরেজি প্রবাদ “A man can die but once”-এর মাধ্যমে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ পায়।
তারা ক্রমবর্ধমানভাবে বিশ্বাস করে যে, আরও এক প্রজন্ম ধরে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি এবং বারবার ফিরে আসা সংকট সহ্য করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মৌলিক সংঘাতের চিরস্থায়ী সমাধান করাই শ্রেয়।
কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি
তেহরানে ইসলামাবাদ স্মারকলিপিটিকে ব্যাপকভাবে একটি সম্ভাব্য মোড় পরিবর্তনকারী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল , কিন্তু নবায়িত মার্কিন সামরিক অভিযান, তার জের ধরে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধাভিযান এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রকাশ্য আহ্বান এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে, কূটনীতি নির্বিশেষে ওয়াশিংটন ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করতে বদ্ধপরিকর।
এই মানসিকতা ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের গঠনেও প্রতিফলিত হয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইরান- ইরাক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত, যিনি একজন তরুণ সৈনিক হিসেবে সম্মুখ সমরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাম্প্রতিক সংঘাতের উত্তরাধিকারও বহন করেন, যেখানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে তাঁর বাবা, স্ত্রী ও ছেলে নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে, ইরানের যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল নির্ধারণকারী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা—যাদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই—সকলেই ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ কমান্ডার, যাদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা আজও তেহরানের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে চলেছে।
মূল বিষয়টি হলো, ওয়াশিংটন এখন এমন এক ইরানি নেতৃত্বের মুখোমুখি হতে পারে, যারা বিগত বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে।
বর্তমান সংকট এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাকে সামরিক কৌশলবিদরা কৌশলগত অচলাবস্থা বলে অভিহিত করবেন। ওয়াশিংটন বা তেহরান, কারোর কাছেই বিজয়ের কোনো রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পথ নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ইরানের সহ্যক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে, তবুও শুধুমাত্র এই ধরনের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধিত হওয়ার বা তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন ঘটানোর মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষতিসাধন করার ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
সংক্ষেপে, উভয় পক্ষেরই যন্ত্রণা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য কোনো পক্ষেরই নেই।
পছন্দ নির্ধারণ
ট্রাম্প এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। তাঁর দুই রাষ্ট্রপতি শাসনামলে তিনি মার্কিন-ইরান সম্পর্কে তিনটি স্বতন্ত্র উত্তরাধিকার রেখে গেছেন: “সর্বোচ্চ চাপ”, একাধিক সামরিক সংঘাত এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক। তিনি এই তিনটিই রক্ষা করতে পারবেন না।
একটি ট্রেন একই সময়ে তিনটি ভিন্ন ট্র্যাকে চলতে পারে না। ট্রাম্প যদি চান যে ইতিহাস তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনকারী একজন আমেরিকান রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনে রাখুক, তবে তাঁর উচিত নিজের কূটনৈতিক উত্তরাধিকার—ইসলামাবাদ স্মারকলিপি—বেছে নিয়ে সেটিকে এমন একটি ব্যাপক নিষ্পত্তিতে রূপান্তরিত করা, যা প্রায় পাঁচ দশকের শত্রুতার অবসান ঘটাতে সক্ষম।
এই ধরনের একটি বড় সমঝোতায় প্রাথমিকভাবে আজকের সংঘাতের মূল কারণ দুটি বিষয়ের ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। প্রথমটি হলো হরমুজ প্রণালী। এই জলপথটিকে বারবার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে না দিয়ে, ওয়াশিংটন, তেহরান, মাস্কাট এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর উচিত একটি স্থায়ী সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা, যা নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে, সামুদ্রিক সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বকে স্বীকৃতি দেবে।
দ্বিতীয়টি হলো পারমাণবিক বিষয়। প্রশাসন পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা আরেকটি অস্থায়ী রাজনৈতিক বোঝাপড়ার পরিবর্তে, উভয় সরকারের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা উচিত, যার অধীনে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির আওতায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য তার আইনগত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার বজায় রেখে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেবে। মার্কিন কংগ্রেস এবং ইরানের সংসদ উভয়ের অনুমোদন চুক্তিটিকে এমন এক ধরনের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব দেবে, যা পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোতে ছিল না।
বিগত পাঁচ দশকে গৃহীত প্রায় প্রতিটি প্রধান কৌশল—সম্পৃক্ততা, নিষেধাজ্ঞা, সর্বোচ্চ চাপ, গোপন অভিযান, লক্ষ্যবস্তু করে গুপ্তহত্যা, শাসন পরিবর্তন নীতি এবং পরিশেষে তিনটি যুদ্ধ—একটি স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে।
একমাত্র প্রধান কৌশল যা কখনও গুরুত্ব সহকারে পরীক্ষিত হয়নি, তা হলো একটি টেকসই ও সুস্থ মার্কিন-ইরান সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত ব্যাপক কূটনীতি।
আসল প্রশ্নটি এখন আর এটা নয় যে বলপ্রয়োগ তার সীমায় পৌঁছেছে কি না — এটি পৌঁছে গেছে।
এর বিকল্প বিজয় নয়, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ, যা ইরান, ইসরায়েল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও গভীর করার, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত করার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
এখন প্রশ্ন হলো, চিরস্থায়ী সংঘাতকে টেকসই শান্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করার এই সম্ভবত শেষ সুযোগটি কাজে লাগানোর মতো কৌশলগত দূরদৃষ্টি ও রাজনৈতিক সাহস ওয়াশিংটন ও তেহরানের আছে কি না।
ট্রাম্পের সামনে একটি ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার গড়ে তোলার এক বিরল সুযোগ রয়েছে। তিনি ইরান এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি ব্যাপক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারেন, যা বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল এই অঞ্চলটিকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি অধিকতর স্থিতিশীল ভিত্তিতে রূপান্তরিত করবে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি কৌশলগত বোঝাপড়া সহজতর করার ক্ষেত্রেও তার একটি অনন্য সুযোগ রয়েছে – যা অগত্যা কূটনৈতিক স্বাভাবিকীকরণ নয়, বরং এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা যার অধীনে উভয় পক্ষ তাদের পারস্পরিক সামরিক, নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের হুমকিগুলোর অবসান ঘটাবে এবং ‘সংকটের মাধ্যমে স্থায়ী প্রতিরোধ’-এর পরিবর্তে ‘চুক্তির মাধ্যমে স্থিতিশীল প্রতিরোধ’ প্রতিষ্ঠা করবে।
এই ধরনের সাফল্য কেবল একটি কূটনৈতিক অগ্রগতিই হবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি মৌলিক পুনর্গঠন ঘটাবে—যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বিশ্ব বাণিজ্য এবং আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনবে।
- সৈয়দ হোসেন মুসাভিয়ান: প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিজিটিং রিসার্চ কোলাবোরেটর এবং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির প্রাক্তন প্রধান। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

