ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন জোটের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা। শনিবার সম্মেলনে একসঙ্গে দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।
এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিকসের এই শীর্ষ বৈঠক। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। দুই নেতা দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ ও দক্ষ জনশক্তি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ও তাদের আলোচনায় উঠে আসে।
ব্রিকস বর্তমানে ১১টি দেশের জোট। ভারত, চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবও এর সদস্য। এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
দুই দিনের সম্মেলনে ব্রিকসের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব, বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাবও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

