কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের পক্ষে এবার মানবিক আবেদন জানালেন অস্ট্রেলিয়ার সাতজন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে তাঁরা কারাগারে ইমরানের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষর করা সাতজনের মধ্যে আছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব— যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক টেস্ট অধিনায়করা এবং নারী ক্রিকেটের একজন সাবেক অধিনায়কও। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজনীতিক বা কূটনীতিক হিসেবে নয়, বরং সাবেক অধিনায়কের পরিচয় থেকেই কথা বলার তাগিদ অনুভব করেছেন তাঁরা।
চিঠিতে তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান কোনো আইনি বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাঁরা পক্ষ নিচ্ছেন না— সেটি সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাঁদের মূল উদ্বেগ, কারাবন্দী কোনো মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে। তাঁদের ভাষায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যা-ই হোক, মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ একটি মৌলিক বিষয়।
১৯৯২ সালে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের পক্ষে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আসা আবেদনের ধারাবাহিকতায় এটিই সাম্প্রতিকতম উদ্যোগ। নতুন চিঠিতে কারাগারে তাঁর প্রতি অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে কড়াকড়ি এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা তোলা হয়েছে— বিষয়গুলো নিয়ে ইমরানের সন্তান ও ভাই-বোনেরা গত কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা, বাস্তবে তা মিলছে না।
সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি ছিল— আদালত-নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডের (যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও রয়েছেন) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, বিশেষত তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা; আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগ কোনো বাধা ছাড়াই কার্যকর রাখা; এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসকদের সুপারিশ করা চিকিৎসা দ্রুত প্রদান করা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের পাঠানো প্রথম চিঠির পর এটি দ্বিতীয় দফার আবেদন। এরই মধ্যে পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের কয়েকজনও ইমরানের সুস্থতা ও মুক্তি চেয়ে সরব হয়েছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান জাতীয় অধিনায়ক এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দুজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারও ইতিমধ্যে ইমরান খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়কের এই দলটি গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো সাড়া পাননি।
১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্রিকেট ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির একটি কারাগারে বন্দী আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট অঙ্গনের এই ধরনের ক্রমাগত মানবিক আবেদন প্রমাণ করে যে ইমরান খানের বন্দিদশা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ কমছে না, বরং তা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তবে এই আবেদনগুলো পাকিস্তান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

