ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধান হলে দেশটিকে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইট বলেন, ‘আমরা ইরানের বাইরে থেকে তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী। তবে তিনি দাবি করেন, তেহরানের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। যদিও ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য ছিল না।
রাইট বলেন, ‘তারা আবারও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে এবং নিজেদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।’
তবে কূটনৈতিক প্রস্তাবের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। রাইটের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে নির্মাণকাজে বড় ধরনের তৎপরতা শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ওই স্থাপনার কাছের এলাকায় সামরিক কার্যক্রমের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইরানে ‘আরও ব্যাপক হারে বোমা হামলা’ চালানো হবে এবং দেশটি ‘কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না’।
নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছেই অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় তৎপরতা ও যাতায়াত শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সাইটটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

