Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, অক্টো. 30, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কে এই জাফর পানাহি? যাঁর ক্যামেরা ও সিনেমার ভাষা কারাগার-নিষেধাজ্ঞাতেও থামেনি
    আন্তর্জাতিক

    কে এই জাফর পানাহি? যাঁর ক্যামেরা ও সিনেমার ভাষা কারাগার-নিষেধাজ্ঞাতেও থামেনি

    এফ. আর. ইমরানঅক্টোবর 30, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ চলচ্চিত্রের জন্য পালম ডি'অর বিজয়ী পরিচালক জাফর পানাহি, শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫ তারিখে দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত ৭৮তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের ফটো কলে আলোকচিত্রীদের জন্য পোজ দিচ্ছেন।ছবি: এপি
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার হাতে ক্যামেরা আছে, কিন্তু তিনি ছবি তুলতে পারবেন না। মাথায় গল্প আছে, কিন্তু চিত্রনাট্য লিখতে পারবেন না। নিজের কাজ নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই, দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগও নেই। রাষ্ট্র যখন একজন শিল্পীর সৃজনশীলতাকে এভাবে আটকে দিতে চায়, তখন প্রশ্ন ওঠে, শিল্পকে কি সত্যিই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

    ইরানি চলচ্চিত্রকার জাফর পানাহির জীবন এই প্রশ্নের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। গত দেড় দশকে তাঁর বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, চলচ্চিত্র নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা এবং ভ্রমণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন পথ খুঁজেছেন। কখনো নিজের ঘরে বসে, কখনো ট্যাক্সির চালকের আসনে, আবার কখনো দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এমন সব সিনেমা তৈরি করেছেন, যেগুলো একই সঙ্গে শিল্পকর্ম ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।

    পানাহির এই যাত্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি নিষেধাজ্ঞাকে শুধু বাধা হিসেবে দেখেননি; বরং নিজের চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছেন। যে রাষ্ট্র তাঁকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে দিতে চায়নি, সেই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, ভয় এবং সামাজিক বাস্তবতাই তাঁর সিনেমার কেন্দ্রে জায়গা পেয়েছে।

    ২০২৫ সালে তাঁর নির্মিত ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম অর্জন করে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে এই স্বীকৃতি পাওয়ার এক বছরের মাথায়, ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর, আবারও তাঁর বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় আসে।

    পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দুই বছরের জন্য বিদেশভ্রমণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    পানাহির অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোও এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের আরেকটি মামলায় তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন চলচ্চিত্রকারের বিরুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক বিচারিক পদক্ষেপ আবারও দেশটিতে মতপ্রকাশ ও শিল্পচর্চার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    ছোট গল্প থেকে রাষ্ট্রের বড় বাস্তবতা

    জাফর পানাহির চলচ্চিত্রের শক্তি বুঝতে হলে তাঁর শুরুটা দেখতে হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’ ছিল তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ইরানের আরেক প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়ারোস্তামি।

    ছবির গল্প খুব সাধারণ। ইরানি নববর্ষের আগে একটি ছোট মেয়ে সোনালি মাছ কিনতে চায়। সেই মাছ কেনার জন্য তার যাত্রা ঘিরেই তৈরি হয় পুরো চলচ্চিত্র। পথে সে নানা মানুষের মুখোমুখি হয়, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়ে এবং শহরের বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।

    এখানে বড় কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নেই, নেই নাটকীয় কোনো বিপ্লব কিংবা ক্ষমতার লড়াই। কিন্তু ছোট মেয়েটির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ইরানের সমাজ, মানুষের আচরণ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক সম্পর্কের নানা দিক সামনে আসে। চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ক্যামেরা দ’অর পুরস্কার অর্জন করে।

    A man poses in front of a wooden bookcase with glass shelving filled with different types of film cameras.
    ২০১০ সালের ৩০শে আগস্ট তেহরানে ক্যামেরার তাকের সামনে প্রতিকৃতি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন জাফর পানাহি। ছবি: এএফপি

    এই ছবিতেই পানাহির নির্মাণশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তিনি বড় রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জন্য বড় ঘটনা খোঁজেন না। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অভিজ্ঞতার মধ্যেই সমাজের বড় সংকট খুঁজে নেন। তাঁর ক্যামেরা তাই শুধু চরিত্রের মুখ অনুসরণ করে না; সেই চরিত্র যে সমাজের মধ্যে বাস করে, তার বাস্তবতাও তুলে ধরে।

    পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে এই বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০০০ সালের ‘দ্য সার্কেল’-এ ইরানি নারীদের চলাফেরা, সামাজিক স্বাধীনতা এবং বৈষম্যের বিষয় উঠে আসে। কয়েকজন নারীর বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতাকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি দেখান, ব্যক্তিগত জীবনের সংকট কীভাবে বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

    ২০০৬ সালের ‘অফসাইড’-এ তিনি ইরানে নারীদের ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে গল্পের কেন্দ্রে আনেন। কয়েকজন তরুণী পুরুষের ছদ্মবেশে স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করে। ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ হলেও এর মধ্য দিয়ে নারীর স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক বিধিনিষেধের প্রশ্ন সামনে আসে। ছবিটি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে সিলভার বেয়ার পুরস্কার অর্জন করে।

    পানাহির সিনেমার রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। তিনি সরাসরি বক্তৃতা দিয়ে দর্শককে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য করেন না। বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন, যেখানে দর্শক নিজেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন—কেন একজন নারী ফুটবল দেখতে যেতে পারবেন না? কেন একজন সাধারণ মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা পাবেন না? কেন রাষ্ট্রের নির্দেশ একজন শিল্পীর কাজ করার অধিকার কেড়ে নেবে?

    নিষেধাজ্ঞাকে চলচ্চিত্রের ভাষায় পরিণত করা

    ২০১০ সালে পানাহির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০ বছরের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, চিত্রনাট্য লেখা, সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং বিদেশভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্য এটি ছিল তাঁর পেশাগত অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। কারণ চলচ্চিত্র নির্মাণ শুধু ক্যামেরা পরিচালনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে চিন্তা, কল্পনা, চিত্রনাট্য, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাস্তবতা পর্যবেক্ষণের স্বাধীনতা।

    কিন্তু পানাহি এখানেই থেমে যাননি। ২০১১ সালে মোজতবা মিরতাহমাসবের সঙ্গে তৈরি করেন ‘দিস ইজ নট অ্যা ফিল্ম’। ছবিটির নামই যেন রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতি এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক জবাব।

    নিজের বাড়িতে বসে পানাহি একটি চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করেন, গল্পের দৃশ্যগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং কীভাবে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা যেত, তা দর্শককে দেখান। ঘরের ভেতরের সাধারণ পরিবেশ, একটি ক্যামেরা, চিত্রনাট্যের কয়েকটি পৃষ্ঠা এবং তাঁর নিজের কথাবার্তাই হয়ে ওঠে সিনেমার উপাদান।

    দ্য হোয়াইট বেলুন সিনেমার দৃশ্য
    ১৯৯৫ সালের জাফর পানাহিস “দ্য হোয়াইট ব্যালন” এর জন্য প্রথম সিনেমার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

    ছবিটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এখানে নির্মাতা শুধু গল্প বলছেন না; তিনি দেখাচ্ছেন, তাঁকে কীভাবে গল্প বলা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা নিজেই হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্রের বিষয়।

    ছবিটি গোপনে একটি ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভে করে ইরানের বাইরে পাঠানো হয় এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তৈরি এই কাজ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।

    ২০১৩ সালের ‘ক্লোজড কার্টেইন’ এবং ২০১৫ সালের ‘ট্যাক্সি তেহরান’-এও পানাহি একইভাবে নিজের সীমাবদ্ধতাকে সৃজনশীল উপাদানে পরিণত করেন। ‘ট্যাক্সি তেহরান’-এ তিনি নিজেই ট্যাক্সিচালকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। গাড়িতে ওঠা বিভিন্ন যাত্রীর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ইরানের সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের নানা দিক উঠে আসে।

    একটি ট্যাক্সির ভেতরকে তিনি যেন গোটা সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণে পরিণত করেন। এখানে আলাদা কোনো স্টুডিও নেই, বিশাল আয়োজন নেই, প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগও নেই। অথচ এই সীমিত পরিসরেই তৈরি হয় এমন একটি সিনেমা, যা ২০১৫ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের গোল্ডেন বেয়ার অর্জন করে।

    ২০১৮ সালের ‘থ্রি ফেসেস’ এবং ২০২২ সালের ‘নো বেয়ারস’-এও মানুষের স্বাধীনতা, সামাজিক চাপ এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো ফিরে আসে। বিশেষ করে ‘নো বেয়ারস’-এ একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার অবস্থান, দূর থেকে অন্যের জীবন পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তবতার সঙ্গে শিল্পের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    কারাগার, অনশন এবং আবারও চলচ্চিত্রে ফেরা

    ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবারও গ্রেপ্তার হন পানাহি। দুই চলচ্চিত্রকার মোহাম্মদ রাসুলফ ও মোস্তফা আল-আহমদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আটক হন। পরে আগের ছয় বছরের কারাদণ্ড কার্যকরের জন্য তাঁকে তেহরানের এভিন কারাগারে পাঠানো হয়।

    কারাগারে প্রায় সাত মাস থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অনশন শুরু করেন। কয়েক দিন পর জামিনে মুক্তি পান। একই বছরের মার্চে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট আগের সাজা বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন।

    কারাগারের অভিজ্ঞতা তাঁর চলচ্চিত্র ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সেখানে তিনি শুধু নিজের স্বাধীনতা হারানোর অভিজ্ঞতা দেখেননি; বরং বন্দিদের জীবন, তাদের ভয়, অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে মানুষের অসহায় অবস্থাও প্রত্যক্ষ করেছেন।

    Award-winning Iranian film director Jafar Panahi arrested amid crackdown
    ২০০৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বার্লিনে অনুষ্ঠিত ৫৬তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব ‘বার্লিনালে’-তে ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি। ছবি: এপি

    ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর নতুন করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়। চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম জয় করে। একজন নির্মাতার জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। কিন্তু এর চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যে শিল্পীকে বারবার কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রই শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছে।

    রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, শিল্পীর স্বাধীনতা

    পানাহির বিরুদ্ধে নতুন কারাদণ্ডের রায় আবারও একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—একজন শিল্পীর কাজের সীমা নির্ধারণের অধিকার রাষ্ট্রের কতটা? জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো সরকার কি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার গল্প বলা, মতপ্রকাশ কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অধিকার সীমিত করতে পারে?

    রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনের প্রশ্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই যুক্তি ব্যবহার করে শিল্পী ও নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতা সংকুচিত করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলারও প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে যখন একজন নির্মাতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা ও কারাদণ্ডের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    পানাহির গল্প তাই শুধু একজন ইরানি চলচ্চিত্রকারের ব্যক্তিগত সংগ্রামের ইতিহাস নয়। এটি শিল্পের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং মানুষের নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের অধিকারের বৃহত্তর আলোচনার অংশ।

    তাঁর চলচ্চিত্রগুলো দেখলে বোঝা যায়, তিনি সব সময় সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে চাননি। কখনো একটি শিশুর মাছ কেনার ইচ্ছা, কখনো নারীদের ফুটবল ম্যাচ দেখার চেষ্টা, আবার কখনো একটি ট্যাক্সির ভেতরের কথোপকথন—এসব সাধারণ ঘটনাই তাঁর হাতে হয়ে উঠেছে সমাজের বাস্তবতা বোঝার মাধ্যম।

    ইট ওয়াজ অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট সিনেমার দৃশ্য
    ইট ওয়াজ অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট সিনেমার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

    এ কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে নতুন সাজা ঘোষণার ঘটনা শুধু চলচ্চিত্র অঙ্গনের খবর নয়। এটি এমন এক শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন, যিনি নিজের কাজের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন—গল্প বলার জন্য সব সময় বড় আয়োজন লাগে না; প্রয়োজন হয় দেখার চোখ, মানুষের অভিজ্ঞতার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিজের বক্তব্য প্রকাশের সাহস।

    পানাহিকে হয়তো আবার কারাগারে যেতে হতে পারে। তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণের পথও নতুন করে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু তাঁর কাজ ইতোমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা একটি চলচ্চিত্র নির্মাতার শারীরিক স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে, তাঁর কাজের পরিবেশ কেড়ে নিতে পারে; কিন্তু তাঁর তৈরি চলচ্চিত্রের অর্থ ও রাজনৈতিক তাৎপর্যকে সহজে মুছে দিতে পারে না।

    একসময় রাষ্ট্র তাঁর ক্যামেরা থামাতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই ক্যামেরা দিয়েই পানাহি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বৈষম্য এবং মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্ন আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য সম্ভবত এটাই—যে নিষেধাজ্ঞা তাঁকে নীরব করতে চেয়েছিল, সেটিই তাঁর চলচ্চিত্রকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।


    তথ্যসূত্র: রয়টার্স, কান চলচ্চিত্র উৎসব, ইরান মানবাধিকার, তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য ও বিভিন্ন গনমাধ্যম।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ক্রিপ্টোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরি, বাইন্যান্স থেকে উধাও ৬৩০ কোটি ডলার

    অক্টোবর 30, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানের শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়: গালিবাফ

    অক্টোবর 30, 2026
    মতামত

    উড়ালসড়ক-মেট্রোরেলের ঢাকা, গণশৌচাগারে পরিণত হলো কেন?

    অক্টোবর 30, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.