ভালো বেতনের চাকরির আশায় দেশ ছেড়েছিলেন ছয় বাংলাদেশি নারী। কিন্তু চাকরির বদলে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয় ভারতের পুনের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে। জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছে ভারতের পুলিশ। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ভোরে পুনে শহরের বুধওয়ার পেঠ এলাকার বিভিন্ন যৌনপল্লিতে অভিযান চালায় পুলিশ। উপকমিশনার কৃষিকেশ রাওয়ালের নেতৃত্বে ফরাসখানা, বিশ্রামবাগ ও খাদক থানার পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
প্রায় চার মাস আগে ওই ছয় নারীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যায় একটি মানবপাচারকারী চক্র। মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন চক্রের সদস্যরা। সেই কথায় বিশ্বাস করে রাজি হলে নারীদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে পুনে শহরে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন যৌনপল্লির মালিকের কাছে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপকমিশনার কৃষিকেশ রাওয়াল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, উদ্ধার হওয়া নারীদের কাছে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র বা পরিচয়পত্র ছিল না। নারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দালালেরা তাঁদের সীমান্ত পার হতে সহায়তা করেছিলেন। ভারতে নেওয়ার পর তাঁদের যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ফরাসখানা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও তাঁরা এখনো পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের ধারণা, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র জড়িত। তবে চক্রটির সদস্যসংখ্যা কত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কীভাবে নারীদের সীমান্ত পার করিয়ে ভারতে নেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে কারা সহযোগিতা করেছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাচারের সঙ্গে চক্রটির অন্য কোনো সদস্য বা শাখা জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও পুনের বুধওয়ার পেঠ এলাকা থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাঁদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে তাঁদের জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

