যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চললেও তাঁকে সরানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
হেগসেথের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তার ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের দায় সামরিক নেতৃত্বের ওপরও পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের নাম আলোচনায় রয়েছে। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় এই দুই সামরিক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট অন্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
নির্বাচনের আগেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে তাঁর বিরুদ্ধে সেই উদ্যোগ আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইরান যুদ্ধকেই পরাজয়ের কারণ বললেন ভ্যান্স
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমাদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ হলো এই যুদ্ধ।”
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামরিক অভিযানের প্রভাব নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফলে সেই অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এদিকে সিবিএস নিউজকে একটি সূত্র জানিয়েছে, হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের নাম বিবেচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের যুক্তি, নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরুর আগের অন্তর্বর্তী সময়কে কাজে লাগিয়ে ডিস্যান্টিসের নিয়োগের বিষয়ে সিনেটের অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
আগামী ৫ জানুয়ারি ফ্লোরিডার গভর্নর হিসেবে ডিস্যান্টিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারেন বলে সম্ভাব্য পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হেগসেথকে সরানোর পরিকল্পনা অস্বীকার ট্রাম্পের
তবে বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হেগসেথকে সরানোর পরিকল্পনা করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, আমার মনে হয় তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।”
টেনেসির সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর শূন্য হওয়া সিনেট আসনে হেগসেথকে দেখতে চান কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “প্রকৃতপক্ষে আমি মনে করি তিনি সেখানে গেলে দারুণ জনপ্রিয় হবেন, কিন্তু আমি এ ধরনের কোনো কথা একেবারেই শুনিনি।”
অন্যদিকে হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সেক্রেটারি হেগসেথের ওপর প্রেসিডেন্টের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
বিবৃতিতে কেলি ইরান ও ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাইডেন প্রশাসনের সময়ে পেন্টাগনে গুরুত্ব পাওয়া বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) নীতি এবং কথিত ‘ওক আদর্শ’ বাতিল করতে হেগসেথের নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন।
ফলে একদিকে নির্বাচনী পরাজয়ের পর প্রতিরক্ষা দপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে হেগসেথের প্রতি আস্থা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

