৯২ বছর বয়সেও থামছেন না তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধান ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া আবারো প্রার্থী হচ্ছেন। এ নিয়ে অষ্টমবার।
গতকাল, ১৩ জুলাই—নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, “আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী। আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবিলায় আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনে জয়ী হলে শতবর্ষের কাছাকাছি বয়সেও রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবেন বিয়া। ১৯৮২ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। তখন ক্যামেরুনের প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমাদু আহিজো পদত্যাগ করেন। তারপর থেকে টানা চার দশক ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছেন বিয়া।
২০১৮ সালের নির্বাচনেও ৭১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। তবে ওই ভোট নিয়ে বিরোধী দলগুলো অনিয়মের অভিযোগ তোলে। ২০০৮ সালে বিয়া সংবিধানের প্রেসিডেন্ট মেয়াদসীমা বাতিল করেন, ফলে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রার্থী হতে পারেন—এখন আর কোনো বাধা নেই।
কিন্তু দীর্ঘদিনের এই শাসন নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধীদের অভিযোগ— এই শাসনে ক্যামেরুনে গণতন্ত্র রুদ্ধ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্থবির।
মানবাধিকারকর্মী এনকংঘো ফেলিক্স আগবর বলেন, “বিয়ার ফের প্রার্থী হওয়া আমাদের রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিচ্ছবি। এখন আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার।”
এছাড়া প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। গত বছর একটানা ৪২ দিন তিনি জনসম্মুখে আসেননি। পরে দেশে ফিরলেও সরকার তার স্বাস্থ্য বিষয়ে যেকোনো আলোচনা নিষিদ্ধ করে।
চলতি শাসনামলে ক্যামেরুনে একের পর এক সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা এবং বোকো হারামের জঙ্গি হামলা যেন নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে।
এই বাস্তবতায় ২০২৫ সালের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কয়েকজন প্রভাবশালী বিরোধী নেতা। তারা দাবি তুলেছেন—নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার আনতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছ ভোট।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর থেকে মাত্র দুইজন রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছে ক্যামেরুন। এই দীর্ঘ নেতৃত্ব দেশটির রাজনৈতিক স্থবিরতা ও গণতন্ত্রহীনতার বড় প্রমাণ।

