সীমান্তে কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থাইল্যান্ডে আটক হওয়া কম্বোডিয়ার ২০ জন সেনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে নমপেন। যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর থাই বাহিনীর হাতে আটক হন এসব সেনা সদস্য।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা জানিয়েছেন, আটক সেনাদের মুক্তির বিষয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে থাই গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেনাদের দেশে ফেরানোর আগে তাদের “আইনি প্রক্রিয়ার” মুখোমুখি করতে চায় থাই সেনাবাহিনী।
সোচেতা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে আমাদের সেনারা নিরাপদ ও দ্রুত দেশে ফিরে আসতে পারে।” তিনি আরো বলেন, “আমরা আহ্বান জানাই, ২০ জন সেনা সদস্যকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত পাঠানো হোক।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে যুদ্ধবিরতির প্রায় আট ঘণ্টা পর কম্বোডিয়ার সেনারা থাইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ঢোকার পর তাদের আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার থাই সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল উইনথাই সুভারি জানান, আটক সেনাদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচার করা হবে। থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় আর্মি রিজিয়নের কমান্ডার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
থাই পত্রিকা দ্য ন্যাশন জানিয়েছে, সেনাবাহিনী বলেছে- আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই আটক সেনাদের ফেরত পাঠানো হবে। তবে এই প্রক্রিয়া কেমন হবে সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। থাই বাহিনীর কড়া অবস্থানের কারণে ধারণা করা হচ্ছে, পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে থাই সরকার বুধবার জানিয়েছে, আটক সেনারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও সামরিক বিধি অনুযায়ী হেফাজতে রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
গত কয়েকদিনের গোলাবিনিময়ের ঘটনায় থাই-কাম্বোডিয়া সীমান্তের দুই পাশ থেকে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পালিয়েছে। রকেট ও কামানের গোলা বর্ষণের পাশাপাশি কৃষি জমি ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় কম্বোডিয়ার অবস্থান লক্ষ্য করে থাই যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।
থাইল্যান্ড দাবি করেছে, সংঘর্ষে তাদের ১৫ সেনা ও ১৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের ৫ সেনা ও ৮ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
যদিও উভয় দেশই যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ করেছে একে অপরের বিরুদ্ধে, মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চুক্তিটি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে এবং দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগে সংঘাতের মূল কারণ খুঁজে সমাধানে যেতে হবে।”

